এ যেন রূপকথার গল্প! পেটের দায়ে মাত্র ১৩ বছর বয়সে ভিনরাজ্যে শ্রমিকের কাজে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন যে কিশোর, ৩৫ বছর পর সেই ‘মৃত’ মানুষটি ফিরলেন মধ্যবয়স্ক রূপে। মালদহের কালিয়াচকের যদুপুরের বাসিন্দা জাহিদ শেখের এই অলৌকিক প্রত্যাবর্তনে তাঁর পরিবার-সহ গোটা গ্রামে আনন্দের বন্যা।
প্রায় ৩৫ বছর আগে জাহিদ যখন নিখোঁজ হন, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৩। পরিবার বহু খোঁজ করেও তাঁর সন্ধান না পাওয়ায় অবশেষে ইসলামিক প্রথা মেনে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়েছিল। বাড়ির লোক ধরে নিয়েছিলেন, জাহিদ আর বেঁচে নেই। বর্তমানে ৪৮ বছর বয়সী জাহিদ শেখ আচমকাই গত রাতে স্ত্রী ও সাত সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে নিজের বাড়িতে এসে উপস্থিত হন।
জাহিদ শেখ জানান, পঞ্জাবে কাজ করার সময় এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন। প্রায় এক বছর অচেতন অবস্থায় তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। সুস্থ হওয়ার পর সেখানেই এক ব্যক্তির আশ্রয়ে কাজ শুরু করেন। এর কিছুদিন পর তিনি চলে যান দিল্লির গাজিয়াবাদে। সেখানেই তাঁর নতুন জীবন শুরু হয়, বিয়ে করেন এবং বর্তমানে তিনি সাত সন্তানের জনক। তাঁর তিন সন্তানের বিয়েও হয়ে গেছে।
পরিবারের সদস্য সুলতান শেখ আবেগপ্রবণ হয়ে জানান, “আমরা বছরের পর বছর তাঁকে খুঁজেছি। যখন কোনও আশা রইল না, তখন শেষকৃত্য করতে বাধ্য হয়েছিলাম। আজ ভাইকে জীবিত অবস্থায় ফিরে পেয়ে আমাদের আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।”
খবরটি গ্রামে ছড়িয়ে পড়তেই সকাল থেকে জাহিদ শেখকে এক ঝলক দেখার জন্য গ্রামবাসীদের ভিড় জমে যায় বাড়িতে। ৩৫ বছর পর হারিয়ে যাওয়া মানুষটিকে ফিরে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আনন্দ ও আবেগে ভেঙে পড়েন।