আপনার পকেটে রাখা নোটটি কি খুব শীঘ্রই পুরোপুরি বদলে যেতে চলেছে? কাগজের নোটের দিন ফুরিয়ে কি এবার বাজারে আসছে পলিমার বা প্লাস্টিকের নোট? সম্প্রতি রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)-এর বোর্ড মিটিংয়ে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পর থেকেই দেশজুড়ে জল্পনা তুঙ্গে।
কেন কাগজের বদলে প্লাস্টিকের পথে হাঁটছে RBI? ভারতের মতো বিশাল দেশে প্রতিদিন যে হারে নোটের হাতবদল হয়, তাতে কাগজের নোট খুব দ্রুত ময়লা হয় এবং ছিঁড়ে যায়। এই নোটগুলো বারবার ছাপাতে গিয়ে সরকারি কোষাগারে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্লাস্টিকের বা পলিমার নোট সাধারণ কাগজের নোটের তুলনায় প্রায় আড়াই গুণ বেশি টেকসই। জল, ধুলো বা আর্দ্রতা—কোনো কিছুতেই এই নোট নষ্ট হওয়ার ভয় নেই।
জাল নোটের কারবার কি চিরতরে বন্ধ? সুরক্ষার দিক থেকে পলিমার নোটকে ধরা হয় দুর্ভেদ্য। এই নোটগুলোতে বিশেষ ধরনের স্বচ্ছ উইন্ডো এবং উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যা নকল করা জালিয়াতদের জন্য প্রায় অসম্ভব। ভারতে জাল নোটের সমস্যা মোকাবিলায় পলিমার নোট একটি বড় সমাধান হতে পারে বলে মনে করছেন অর্থবিশেষজ্ঞরা।
বিশ্বের কোন কোন দেশ ব্যবহার করছে? অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ভিয়েতনাম, কানাডা ও সিঙ্গাপুরের মতো বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশে ইতিমধ্যে পলিমার নোটের সফল ব্যবহার চলছে। ১৯৮৮ সালে অস্ট্রেলিয়া প্রথম এই প্রযুক্তি প্রবর্তন করে, যা আজ সারা বিশ্বে সমাদৃত।
ভারতে চালু হলে কী কী বদল আসবে? RBI যদি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করে, তবে দীর্ঘমেয়াদে ছাপার খরচ অনেকটাই কমবে। তবে এটি রাতারাতি সম্ভব নয়। নতুন ধরণের এই নোট ছাপার জন্য যেমন আধুনিক যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হবে, তেমনই পরিবর্তন করতে হবে বর্তমানের এটিএম ও ব্যাঙ্কিং পরিকাঠামো। তাই ধাপে ধাপে পাইলট প্রজেক্টের মাধ্যমে ভারতে এই নতুন মুদ্রা চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ডিজিটাল পেমেন্টের যুগেও নগদ অর্থের গুরুত্ব কমেনি। সেই নগদের ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, সুরক্ষিত ও দীর্ঘস্থায়ী করার লক্ষ্যেই কি প্লাস্টিক নোটের পথে RBI? উত্তর লুকিয়ে রয়েছে আগামী দিনের সিদ্ধান্তের ওপর।





