বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের কক্ষ বৃহস্পতিবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দ্বৈরথে। রাজ্যপালের ভাষণের জবাবি বক্তৃতায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন বিজেপির দিকে। শুভেন্দু অধিকারীকে ব্যক্তিগত স্তরে আক্রমণ করে মমতা বলেন, “আপনার দিকে আঙুল তুলে মানুষ বলবে, জানেই না কিছু!”
এদিন বিতর্কের সুর বেঁধে দিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা নিজেই। শুভেন্দু অভিযোগ করেন, বিরোধী হিসেবে কাজ করতে গিয়ে তাঁকে বারবার বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। অধিকার রক্ষায় গত কয়েক বছরে তাঁকে ১০৬ বার আদালতের দরজায় কড়া নাড়তে হয়েছে। মমতার পুরনো দিনের লড়াইয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি কটাক্ষ করেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বিরোধী নেত্রী ছিলেন, আমি ওঁর সঙ্গেই ছিলাম। তখন তো ওনাকে এতবার কোর্টে যেতে দেখিনি।” এছাড়াও বিচারাধীন বিষয় (Sub-judice) নিয়ে আলোচনায় শাসক দলের দ্বিচারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
জবাবে মুখ্যমন্ত্রী রণংদেহি মেজাজে ধরা দেন। শুভেন্দুর ‘কোর্ট’ তত্ত্ব নস্যাৎ করে দিয়ে মমতা বলেন, “আমরা কোর্টেও জিতি, ভোটেও জিতি।” সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের কিছু আইনি সাফল্যের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বোঝাতে চান, বিজেপি শুধু আদালতের ভয় দেখায়, কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয় না। এরপরই শুভেন্দুর রাজনৈতিক জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “জানে না কিছু, অথচ অনেক কথা।” এমনকি আগামী নির্বাচনে বিজেপি অনেক আসন হারাবে বলেও ভবিষ্যদ্বাণী করেন তিনি।
বক্তৃতার শেষে মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত ও বাংলার বঞ্চনার ইস্যুটিকে ফের হাতিয়ার করেন। বিএসএফ-এর জন্য জমির দাবি থেকে শুরু করে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বা কেন্দ্রীয় বঞ্চনা— প্রতিটি বিষয়েই মোদী সরকারকে নিশানা করেন তিনি। সবশেষে বিরোধীদের উদ্দেশে তাঁর চেনা হুঙ্কার— “আপনারা জিরো ছিলেন, জিরো থাকবেন। বাংলা হিরো ছিল, হিরো থাকবে।”