বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এবার জমি দুর্নীতি মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ডের সাজা শোনালো ঢাকার ৪ নম্বর বিশেষ আদালত। শুধু হাসিনা নন, এই মামলায় তাঁর বোন শেখ রেহানাকে ৭ বছরের এবং বোনঝি, ব্রিটিশ সাংসদ টিউলিপ সিদ্দিকিকে ২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি মহম্মদ রবিউল আলম এই সাজা ঘোষণা করেন।
দুর্নীতির অভিযোগ:
অ্যান্টি কোরাপশন কমিশন (ACC)-এর অভিযোগ, ক্ষমতায় থাকাকালীন শেখ হাসিনা রাজধানী ঢাকার পূর্বাচলে নিউটাউন প্রকল্পে প্লট বিতরণে দুর্নীতি করেছেন।
পদ্ধতি: হাসিনা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর শীর্ষ আধিকারিকদের সাহায্যে সেক্টর ২৭-এ ১০ কাঠার ৬টি প্লট বেআইনিভাবে তাঁর ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নামে করে দেন।
পরিবারের সদস্য: এই তালিকায় তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং মেয়ে সাইমা ওয়াজেদ পুতুলও রয়েছেন, যাঁদের বিরুদ্ধেও অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে।
আদালতের রায় ও পূর্বের সাজা:
গত ১২ থেকে ১৪ জানুয়ারির মধ্যে হাসিনার বিরুদ্ধে ACC মোট ৬টি পৃথক মামলা দায়ের করে। এদিন তার চতুর্থ মামলায় সাজা ঘোষণা করা হলো।
কারাদণ্ড: গত ৩১ জুলাই এই মামলায় হাসিনা, রেহেনা, জয়, পুতুল এবং টিউলিপ-সহ মোট ২৯ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। এর আগে গত ২৭ নভেম্বর, তিনটি পৃথক মামলায় হাসিনাকে ৭ বছর করে মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড এবং জয় ও পুতুলকে ৫ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
অন্যান্য দোষী: একই সঙ্গে, গত ২৭ নভেম্বর প্রাক্তন আবাস মন্ত্রী শরিফ আহমেদ এবং আবাস মন্ত্রকের অন্যান্য আধিকারিক-সহ আরও ২০ জনকে কারাবাসের সাজা দেওয়া হয়েছিল।
উল্লেখ্য, এর আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর মানবতা বিরোধী অপরাধে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ICT-BD) হাসিনা-কে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।
রাজনৈতিক পটভূমি:
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ব্যাপক ছাত্র আন্দোলনের চাপে দেশ ছাড়েন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ঢাকা থেকে পালিয়ে এসে ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর অন্তর্বর্তী প্রশাসন তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য তোড়জোড় শুরু করে।