জঙ্গলমহলে কুড়মি কার্ড! জয়পুরে বিশ্বজিৎকে নামিয়ে বিজেপির ‘মাস্টারস্ট্রোক’, বদলাবে কি সমীকরণ?

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণক্ষেত্রে জঙ্গলমহল এখন সবথেকে চর্চিত কেন্দ্র। দীর্ঘদিনের কুড়মি আন্দোলন এবং এসটি (ST) তালিকার অন্তর্ভুক্তির দাবিকে হাতিয়ার করে এবার বড়সড় চাল চালল বিজেপি। পুরুলিয়ার জয়পুর বিধানসভা কেন্দ্রে কুড়মি সম্প্রদায়ের পরিচিত মুখ বিশ্বজিৎ মাহাতোকে প্রার্থী করে আদতে গোটা জঙ্গলমহলের কুড়মি ভোটব্যাঙ্ককেই বার্তা দিতে চাইল গেরুয়া শিবির। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি নিছক একটি প্রার্থী পদ নয়, বরং তৃণমূলের ‘ভোটব্যাঙ্ক’ ধসানোর এক পরিকল্পিত মাস্টারস্ট্রোক।

সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে কুড়মি আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা অজিত মাহাতোর বৈঠক ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছিল। সেই বৈঠকের রেশ কাটতে না কাটতেই জয়পুরে বিশ্বজিতের নাম ঘোষণা সেই জল্পনায় শিলমোহর দিল। মনে করা হচ্ছে, কুড়মিদের দাবিদাওয়া নিয়ে কেন্দ্রের ইতিবাচক মনোভাবের আশ্বাস পাওয়ার পরেই এই নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। জঙ্গলমহলের পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের বহু আসনেই কুড়মি ভোট নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে। বিজেপির এই পদক্ষেপ সেখানে তৃণমূলের ‘দুয়ারে সরকার’ বা সামাজিক প্রকল্পের সাফল্যকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিতে পারে।

তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য এই ‘কুড়মি কার্ড’ নিয়ে সতর্ক। শাসক শিবিরের দাবি, বিজেপি ভোটের আগে জাতপাতের রাজনীতি করে বিভাজন ঘটাতে চাইছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার কুড়মিদের পাশে থাকার বার্তা দিলেও, কেন্দ্রীয় তালিকার বিষয়টি দিল্লির হাতে থাকায় কিছুটা চাপে রয়েছে রাজ্য। এখন দেখার, বিশ্বজিৎ মাহাতোকে সামনে রেখে বিজেপির এই কৌশল জঙ্গলমহলে কতটুকু পদ্ম ফোটাতে পারে, নাকি তৃণমূলের আদিবাসী ও কুড়মিদের সম্মিলিত উন্নয়ন কার্ডই শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy