“ছেলের ভাতার লাইনে বৃদ্ধ বাবা!” যুবসাথী নিয়ে মমতাকে নজিরবিহীন তোপ দিলীপের!

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য সরকারের নতুন প্রকল্প ‘যুবসাথী’ নিয়ে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে। বেকার যুবক-যুবতীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার এই প্রকল্পকে এবার তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি কটাক্ষের সুরে বলেন, “রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি এতটাই শোচনীয় যে, ছেলে-মেয়েদের চাকরির আশায় আজ বৃদ্ধ বাবাদের ভাতার লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। এটাই কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলার যুবসমাজের জন্য সেরা উপহার?”

ঠিক কী বলেছেন দিলীপ ঘোষ? দিলীপ ঘোষ অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকার কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। শিল্প নেই, নতুন চাকরির সুযোগ নেই— তাই ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখতে ‘ভাতা’র রাজনীতি শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, “ছেলের বেকার ভাতার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন বাবা। এই দৃশ্য অত্যন্ত দুঃখজনক। সাধারণত বাবার ওষুধের লাইনে ছেলেকে দাঁড়াতে দেখা যায়, কিন্তু বাংলায় উল্টো পুরাণ চলছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্ভবত দেখতে চাইছেন রাজ্যে এখনও কত বেকার বাকি আছে। এই সরকার বেকারদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।”

তৃণমূলের পাল্টা জবাব: দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছে শাসক শিবির। তৃণমূলের দাবি, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে বেকারত্বের হার অনেক বেশি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অন্তত মানবিক দিক থেকে বেকারদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। পাল্টা খোঁচা দিয়ে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যরা বলছেন, বিজেপি কেবল কুৎসা করতেই জানে, সাধারণ মানুষের উপকারে তাদের কোনো ভূমিকা নেই।

প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, সম্প্রতি চালু হওয়া ‘যুবসাথী’ প্রকল্পে ইতিমধ্যেই ১৫ লক্ষেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও এই প্রকল্পকে ‘ভোট কেনার চেষ্টা’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। এবার দিলীপ ঘোষের এই ‘বাবা ও ছেলের ভাতার লাইন’ সংক্রান্ত মন্তব্য বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিল।


Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy