এক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় রীতিমতো স্তম্ভিত প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ। রাতের অন্ধকারে জনবহুল এলাকা থেকে বেমালুম গায়েব হয়ে গেল জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর একটি বিশাল ব্রোঞ্জের মূর্তি। যার ওজন প্রায় ৪২৬ কেজি। ঘটনাটি ঘটেছে স্থানীয় একটি পার্ক সংলগ্ন চত্বরে, যেখানে বছরের পর বছর ধরে এই মূর্তিটি স্থাপিত ছিল। সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে দেখেন, বেদির ওপর সেই সুপরিচিত মূর্তিটি আর নেই। চোরেরা এতটাই চতুর যে, তারা মূর্তির কেবল একটি সামান্য অংশ (সম্ভবত লাঠি বা চশমার অংশ) ফেলে রেখে বাকি পুরোটা নিয়ে চম্পট দিয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এই চুরি কোনো একক ব্যক্তির কাজ নয়। ৪২৬ কেজি ওজনের একটি ভারী ধাতব মূর্তি সরাতে গেলে কমপক্ষে ৪ থেকে ৫ জন পেশাদার চোর এবং একটি বড় মালবাহী গাড়ির প্রয়োজন। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ জানার চেষ্টা করছে যে, গভীর রাতে ওই এলাকায় কোনো সন্দেহভাজন ট্রাক বা ক্রেন প্রবেশ করেছিল কি না। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতে এলাকায় পুলিশি টহল না থাকার সুযোগ নিয়েই দুষ্কৃতীরা এই কাণ্ড ঘটিয়েছে।
মূর্তিটি ব্রোঞ্জ বা মূল্যবান সংকর ধাতুর তৈরি হওয়ায় তা গলিয়ে চড়া দামে বিক্রি করার উদ্দেশ্যেই এই চুরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই আশেপাশের পুরোনো লোহা বা ধাতুর দোকানের মালিকদের সতর্ক করেছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে কীভাবে এত ভারী একটি বস্তু উধাও হয়ে গেল, তা নিয়ে রহস্য দানা বাঁধছে। দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার না করলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে স্থানীয়রা।