গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নানা বিতর্ক, উদ্বেগ এবং কিছু অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া আতঙ্কের আবহের মধ্যেই রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া। আজ, মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর থেকে বুথ লেভেল অফিসাররা (BLO) বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য এনুমারেশন ফর্ম বিলি শুরু করলেন।
নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা: গত এক সপ্তাহ ধরে BLO-দের প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও, তাঁরা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন সহ তিনটি দাবি কমিশনের কাছে জানিয়েছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল, জনরোষ বা ভুল বোঝাবুঝির সম্ভাবনা থাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কাজ করা সম্ভব নয়। তবে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব রাজ্যের, আলাদা বাহিনী দেওয়া হবে না। ফলে অনিশ্চয়তা মনে নিয়েই কাজ শুরু করেছেন BLO-রা।
SIR প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সময়সূচি:
৪ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত: বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম বিলি ও তথ্য সংগ্রহ।
৯ ডিসেম্বর: খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ।
৯ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত: অভিযোগ বা আপত্তি জানানোর সুযোগ।
৯ ডিসেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত: অভিযোগ যাচাই ও নিষ্পত্তি।
৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬: চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ।
এই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পথ খুলে যাবে।
রাজনীতির কেন্দ্রে SIR: SIR প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্যে তীব্র রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, একজন বৈধ ভোটারও যাতে বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে, এসআইআর নিয়ে উদ্বেগে কিছু মানুষের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী শিবির অভিযোগ তুলেছে যে ‘ভোটারের মনে ভয় তৈরি’ করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে আজই পথে নামছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের দাবি, “ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে আতঙ্ক ছড়িয়ে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা যাবে না।”
নতুন সংশোধন প্রক্রিয়াটি ২০০২ সালের এসআইআর তথ্যকে ভিত্তি ধরে এগোচ্ছে। ফলে পুরনো তথ্য, ঠিকানা বদল বা নথি সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনও অনেক প্রশ্ন ও সংশয় রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই এক মাসে ফর্ম বিলির কাজ কতটা নির্বিঘ্নে হয় এবং রাজনৈতিক চাপানউতোর কোন দিকে মোড় নেয়।