বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের কথা উল্লেখ করে রবিবার এক ঐতিহাসিক বাণিজ্যের রূপরেখা তুলে ধরলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। তিনি সাফ জানিয়েছেন, ভারত এখন আর দয়া ভিক্ষা নয়, বরং ‘শক্তি ও আত্মবিশ্বাসের অবস্থান’ থেকে বিশ্বের বড় বড় দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে। আগামী ৫ বছরের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫০০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য আমদানিতে ভারতের কোনও সমস্যা হবে না বলেই দাবি করেছেন তিনি।
আমেরিকার বাজারে ভারতীয় পণ্যের ‘অ্যাডভান্টেজ’ সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ভারতের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কিছু মহলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, ভারত ১৮ শতাংশ শুল্কে সম্মত হয়ে আমেরিকাকে বেশি ছাড় দিয়ে ফেলেছে। এই সমালোচনা উড়িয়ে দিয়ে গোয়েল বলেন, “ভারতীয় রপ্তানিকারকরা এখন মার্কিন বাজারে চিনের তুলনায় অনেক বেশি সুবিধা পাবেন। চিনের পণ্যের ওপর যেখানে ৩৫ শতাংশ শুল্ক রয়েছে, সেখানে ভারতের জন্য তা মাত্র ১৮ শতাংশ। ফলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভারত অনেকটা এগিয়ে থাকবে।”
৫ বছরে ২ ট্রিলিয়ন ডলারের চাহিদা মন্ত্রীর মতে, ভারতের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি আগামী ৫ বছরে প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলারের চাহিদা তৈরি করবে। তিনি জানান, ভারত বর্তমানে অন্যান্য দেশ থেকে যা আমদানি করে, তার মধ্যে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য সরাসরি আমেরিকা থেকেই কেনা সম্ভব। প্রথম পর্যায়ের চুক্তি অনুযায়ী, ভারত আগামী ৫ বছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি, বিমান ও যন্ত্রাংশ, মূল্যবান ধাতু, প্রযুক্তি পণ্য এবং কোকিং কয়লা কেনার পরিকল্পনা করেছে।
২০৪৭-এর স্বপ্ন: ৩৫ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি ভবিষ্যতের রূপরেখা স্পষ্ট করে পীযূষ গোয়েল বলেন, “আজ আমরা ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি, কিন্তু ২০৪৭ সালের মধ্যে আমরা ৩০-৩৫ ট্রিলিয়ন ডলারের উন্নত অর্থনীতিতে পরিণত হব। আমরা আমাদের বাণিজ্য অংশীদারদের ভারতের এই অভাবনীয় বৃদ্ধির অংশীদার হওয়ার সুযোগ দিচ্ছি।” ভারতের এই আত্মবিশ্বাসী অবস্থান বিশ্ব অর্থনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।