আলোর উৎসব দীপাবলির আবহে এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডি! সোনারপুর থানার কোদালিয়ার কদমতলা এলাকা থেকে রবিবার সন্ধ্যায় পাঁচ বছরের এক শিশুর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। মৃতদেহে একাধিক ক্ষতচিহ্ন পাওয়ায় খুনের (Murder) আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ।
কীভাবে ঘটল এই ঘটনা?
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রত্যুষা কর্মকার (নাম পরিবর্তিত) নামে ওই শিশুটির মা কলকাতার একটি নামী বৈদ্যুতিক বিপণিতে এবং বাবা একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত। প্রতিদিনের মতো রবিবারও তাঁরা কাজে বেরিয়ে যান। বাড়িতে ছিলেন শিশুটির দেখভালের দায়িত্বে থাকা দাদু, দিদা এবং একজন পরিচারিকা।
সন্ধ্যার দিকে আচমকা বাড়ি থেকে চিৎকারের শব্দ শুনে স্থানীয়রা ছুটে আসেন। ঘরে ঢুকতেই তাঁরা দেখেন রক্তে ভেজা অবস্থায় মেঝেতে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে রয়েছে শিশুটি। দ্রুত তাকে সোনারপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ ও প্রশাসনের বক্তব্য:
শিশুটির মৃতদেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন থাকায় এই ঘটনা নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। কীভাবে দাদু-দিদা ও পরিচারিকার উপস্থিতিতে এমন ঘটনা ঘটল, সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে।
বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত এসপি রূপান্তর সেনগুপ্ত জানিয়েছেন, রবিবার সন্ধ্যায় শিশুটির দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শিশুটির দেহে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে এমন ঘটনা কীভাবে ঘটল, তা জানার জন্য ইতিমধ্যেই সোনারপুর থানার পুলিশ দাদু, দিদা ও পরিচারিকাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। আজ, সোমবার ময়নাতদন্ত করা হবে, যার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ইতিমধ্যে বাড়িটি সিল করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
রাজপুর সোনারপুর পুরসভার চেয়ারম্যান ডা: পল্লব কুমার দাসও এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “পুলিশ প্রশাসনের উপর আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। এই ঘটনার সঠিক তদন্ত করে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি দেবে পুলিশ প্রশাসন।”
দীপালবলির উৎসবের মধ্যেই এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা কদমতলা এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।