সাধারণ জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে গেলে আমরা প্রায়ই বিভিন্ন দেশ এবং তাদের ভৌগোলিক উপনাম সম্পর্কে জানতে পারি। পৃথিবীর প্রতিটি দেশেরই নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা তাকে অনন্য করে তোলে। তেমনই একটি জনপ্রিয় প্রশ্ন হলো, “চিনি বাটির দেশ” বা “Sugar Bowl of the World” হিসেবে পরিচিত কোন রাষ্ট্র? এই প্রশ্নের উত্তরে বর্তমানে বিশ্বের মানচিত্রে কিউবার নাম সবার আগে উঠে আসে।
ক্যারিবিয়ান সাগরের একটি ছোট দ্বীপ রাষ্ট্র কিউবা, যা দীর্ঘকাল ধরে বিশ্বের শীর্ষ চিনি উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছে। কিউবার উর্বর মাটি এবং গ্রীষ্মমন্ডলীয় জলবায়ু আখ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বিশ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত কিউবা ছিল বিশ্বের বৃহত্তম চিনি রপ্তানিকারক দেশ। যদিও বর্তমানে উৎপাদন এবং অর্থনীতির পটভূমি কিছুটা পরিবর্তিত হয়েছে এবং ব্রাজিল বা ভারতের মতো দেশগুলো চিনি উৎপাদনে বিশাল অগ্রগতি ঘটিয়েছে, তবুও ঐতিহাসিকভাবে কিউবাকেই ‘বিশ্বের চিনির পাত্র’ বলা হয়।
আখ চাষ কিউবার অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করে। স্প্যানিশ ঔপনিবেশিক আমল থেকেই এখানে বড় বড় আখের খামার গড়ে উঠেছিল। পর্যটকরা যখন কিউবায় ভ্রমণ করেন, তখন দিগন্ত বিস্তৃত আখের ক্ষেত তাদের চোখে পড়ে। এছাড়া এই আখের চিনি থেকে উৎপাদিত বিভিন্ন পানীয় এবং পণ্য বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছে। তাই কুইজ হোক বা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা, “চিনি বাটির দেশ” হিসেবে কিউবার নাম আজও অপ্রতিদ্বন্দ্বী।