চিনা মালের ভরসায় ডুবেছে তেহরান? মার্কিন-ইজরায়েলি মিসাইল রুখতে ডাহা ফেল চিনের ‘ব্রহ্মাস্ত্রে’

শনিবার আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিধ্বংসী বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইর মৃত্যু কেবল এক রাজনৈতিক বিপর্যয় নয়, বরং চিনা সামরিক প্রযুক্তির ব্যর্থতার এক বড় দলিল হিসেবে সামনে আসছে। ইরান তার আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে চিনের তৈরি অত্যাধুনিক HQ-9B এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের ওপর ভরসা করেছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, ইজরায়েলি এফ-৩৫ স্টিলথ ফাইটার বা মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের সামনে এই চিনা সিস্টেম কার্যত ‘নখদন্তহীন’ হয়ে পড়েছিল।

এর আগে পাকিস্তানও চিন থেকে কেনা সমরাস্ত্রের মান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল। এবার ইরানের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেল। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, চিনের HQ-9B সিস্টেমটি রাশিয়ার S-300-এর অনুকরণে তৈরি করা হলেও এর রাডার প্রযুক্তি এবং ইন্টারসেপ্টর মিসাইলগুলি আধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের সামনে টিকতে পারছে না। শনিবারের হামলায় ইজরায়েলি বিমানগুলি ইরানের রাডারকে অনায়াসেই ফাঁকি দিতে সক্ষম হয়, যার ফলে কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই খামেনেইর অবস্থানস্থল গুঁড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

এই ব্যর্থতা চিনের অস্ত্র বাজারের জন্য একটি বড় ধাক্কা। যেখানে মস্কো বা ওয়াশিংটন তাদের অস্ত্রের কার্যকারিতা সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে প্রমাণ করে, সেখানে বেজিংয়ের অস্ত্রগুলি বারবার মুখ থুবড়ে পড়ছে। ইরান এখন কোটি কোটি টাকা খরচ করে চিনা মাল কিনে ‘ঠকে যাওয়ার’ আফসোস করছে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে। তেহরানের এই চরম বিপর্যয়ের পর প্রশ্ন উঠছে, ড্রাগনের দেশ কি কেবল চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়েই অস্ত্র বিক্রি করে?

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy