সাহিত্যের আভিজাত্য বা তৎসম শব্দের ভার নয়, পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াড়ি ব্লকের কানপুর এলাকার ডাককর্মী পরেশ বেরার কলমে ধরা দিচ্ছে মাটির সোঁদা গন্ধ। বাংলা ও ওড়িশা সীমান্তবর্তী অঞ্চলের আটপৌরে, ঘরোয়া ভাষাতেই তিনি বুনে চলেছেন তাঁর কবিতার মায়া। পেশায় পোস্ট অফিসের কর্মী হলেও পরেশের ধ্যান-জ্ঞান জুড়ে রয়েছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সংগ্রাম আর হাসি-কান্নার গল্প।
পরেশ বিশ্বাস করেন, গালভরা কঠিন শব্দ অনেক সময় সাধারণ মানুষের হৃদয় স্পর্শ করতে পারে না। তাই সীমান্ত এলাকার মানুষের নিজস্ব বাচনভঙ্গি আর সহজ-সরল আবেগকেই তিনি তাঁর কবিতার অলঙ্কার করেছেন। ইতিমধ্যেই মেঠো ভাষায় লেখা তাঁর কবিতার বই স্থানীয় পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সমাদর পেয়েছে। কবি পরেশের কথায়, “আমি চেয়েছিলাম আমার কথাগুলো যেন সাধারণ মানুষের মুখের কথা হয়ে ওঠে, যেখানে তাঁরা নিজেদের জীবনের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পাবেন।”
কর্মজীবনের ব্যস্ততা সামলে অবসর পেলেই শব্দ আর ছন্দের চর্চায় মগ্ন থাকেন এই ‘মাটির কবি’। বড় বড় সাহিত্য সভার জৌলুস এড়িয়ে গ্রাম বাংলার সোঁদা মাটির গন্ধ মাখা সহজ ভাবনার জয়গান গেয়েই এগিয়ে চলছেন পরেশ বেরা। তাঁর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন মেদিনীপুর ও ওড়িশা সীমান্তের অগণিত কাব্যপ্রেমী মানুষ।





