দক্ষিণ ২৪ পরগনার দাপুটে তৃণমূল নেতা চন্দ্রনাথ খুনের তদন্তে এবার এক চাঞ্চল্যকর মোড়। ঘটনার কয়েকদিনের মধ্যেই পুলিশের জালে ধরা পড়েছে বেশ কিছু সন্দেহভাজন। তবে অভিযুক্তদের পরিচয় এবং তাঁদের সাথে ‘জামাত-উল-মুজাহিদিন’ বা ‘সিমি’-র মতো জঙ্গি সংগঠনের যোগসাজশ থাকার যে তত্ত্ব শাসকদলের পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে প্রবল বিতর্ক। বিরোধীদের দাবি, এই জঙ্গি তকমা আসলে মূল ঘটনা থেকে নজর ঘোরানোর একটি রাজনৈতিক ‘প্রহসন’ ছাড়া আর কিছুই নয়।
তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও নয়া তত্ত্ব
ঘটনার পর থেকেই চন্দ্রনাথ খুনের নেপথ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ উঠছিল। তবে সম্প্রতি এই ঘটনায় ধৃতদের সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকার উগ্রপন্থী সংগঠনের যোগাযোগ রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশের দাবি, এই খুনের পেছনে গভীর আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে এবং এর সঙ্গে জামাত ও সিমির মতো নিষিদ্ধ সংগঠনের যোগসূত্র পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এলাকার অতি পরিচিত মুখগুলোকে হঠাৎ করে কেন এই সব বড় মাপের তকমা দেওয়া হচ্ছে?
বিরোধীদের তোপ: “স্ক্রিপ্টেড তদন্ত”
বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, চন্দ্রনাথ খুনে আসলে তৃণমূলের নিজেদের অন্দরের লড়াই জড়িয়ে আছে। বালু থেকে তোলাবাজি— নানা স্বার্থের সংঘাতের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড। এখন সেই কলহ ঢাকতে এবং সাধারণ মানুষের সহানুভূতি কুড়োতে জঙ্গি যোগের গপ্পো ফাঁদা হচ্ছে। তাদের বক্তব্য, যেভাবে তদন্ত এগোচ্ছে তা অত্যন্ত হাস্যকর এবং সত্যকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা। চন্দ্রনাথের অনুগামীদের একাংশও এই নয়া তত্ত্বে খুব একটা আস্থা রাখতে পারছে না।
এলাকায় চাপা উত্তেজনা
এদিকে ধৃতদের জঙ্গি যোগের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। পুলিশ যদিও জানিয়েছে, তারা সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে এবং প্রমাণের ভিত্তিতেই চার্জশিট গঠন করা হবে। তবে অভিযুক্তদের আত্মীয়দের দাবি, রাজনৈতিক আক্রোশের কারণেই তাঁদের ফাঁসানো হচ্ছে।
রাজনৈতিক দড়ি টানাটানি
চন্দ্রনাথ খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে উত্তপ্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনীতি। একদিকে শাসকদল প্রমাণ করতে মরিয়া যে এটি একটি বহিঃশত্রুর আক্রমণ, অন্যদিকে বিরোধীরা বিষয়টিকে ‘জঙ্গলরাজ’ এবং ‘গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের চরম ফল’ হিসেবে ব্যাখ্যা করছে।
চন্দ্রনাথ খুনের আসল রহস্য কি উদঘাটন হবে? না কি জামাত-সিমির তকমাতেই হারিয়ে যাবে আসল অপরাধীরা? প্রতি মুহূর্তের ব্রেকিং নিউজ এবং এই ঘটনার ইনসাইড স্টোরি জানতে চোখ রাখুন DailyHunt-এ।
আপনার কি মনে হয়, এই খুনের পেছনে সত্যিই কোনো আন্তর্জাতিক চক্রান্ত আছে? কমেন্টে আপনার মতামত জানান।





