ঘরছাড়়া তৃণমূল! দিল্লি থেকে উচ্ছেদ পার্থ ভৌমিকের বাংলো, পুরনো ঠিকানায় ফিরল জোড়া ফুল

দিন বদলের হাওয়ায় রাজনীতির সমীকরণ দ্রুত পাল্টাচ্ছে, আর তার আঁচ সরাসরি এসে পড়ল জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের অস্তিত্বের ওপর। এক সময় গোয়া থেকে ত্রিপুরা—ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে নিজের পরিধি বিস্তারের স্বপ্ন দেখা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল এখন নিজেদের ঘর সামলাতেই হিমশিম খাচ্ছে। বিধানসভা থেকে সংসদ, মমতার হাত ধরে বেরিয়ে যাওয়ার হিড়িক লেগেছে দলের অন্দরে। এই ভাঙনের জেরে এবার দিল্লিতেও বড়সড় ধাক্কা খেল তৃণমূল। রাতারাতি ছাড়তে হলো তাদের দিল্লির বিলাসবহুল পার্টি অফিস।

দিল্লির ২০ নম্বর রাজেন্দ্র প্রসাদ রোডে তৃণমূল কংগ্রেসের যে নতুন এবং বৃহৎ পার্টি অফিসটি ছিল, তা বর্তমানে দলের অস্বস্তির প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ঠিকানাটি সাংসদ পার্থ ভৌমিকের নামেই বরাদ্দ ছিল। সংসদীয় রেকর্ডে এটি তাঁরই সাংসদ বাংলো হিসেবে নথিভুক্ত। কিন্তু পার্থ ভৌমিকের দলবদলের পর তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব বুঝতে পেরেছিল, এই বাংলোয় থাকা আর সম্ভব নয়। এরপরই শুরু হয় তাড়াহুড়ো। পার্থ ভৌমিক বিক্ষুব্ধ শিবিরে নাম লেখানোর পর আর এক মুহূর্ত দেরি করতে চায়নি দল। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সেই বাংলো থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে তৃণমূলের সমস্ত জিনিসপত্র এবং নথিপত্র।

এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে তৃণমূল বাধ্য হয়ে ফের ফিরে গেল তাদের পুরনো ঠিকানায়। ৬৬, সাউথ এভিনিউয়ের ঠিকানায় ফের লাগানো হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি দেওয়া সাইনবোর্ড। এটি রাজ্যসভার সাংসদ নাদিমুল হকের বাংলো। দীর্ঘ দিন আগে তৃণমূলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় এই সাউথ এভিনিউতেই ছিল। সূত্রের খবর, নাদিমুল হক বর্তমানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত হিসেবেই পরিচিত, তাই আপাতত এই ঠিকানাতেই আশ্রয় নিয়েছে দল।

দলের এই ঘর বদলের ঘটনা বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, তৃণমূলের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট কতটা গভীর। সংসদীয় বাংলোর বরাদ্দ পাওয়ার ক্ষেত্রে দলের নিয়ন্ত্রণ আলগা হয়ে যাওয়ায় এবং একের পর এক সাংসদ দল ছাড়ায় দিল্লির বুকে তৃণমূলের অস্তিত্ব এখন অনেকটাই নড়বড়ে। গোয়া বা ত্রিপুরার মতো রাজ্যে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা দল একসময় দেখিয়েছিল, আজ দিল্লির বুকে নিজেদের একটি স্থায়ী ও নিরাপদ পার্টি অফিস টিকিয়ে রাখাই তাদের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতির ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ মহলেও চিন্তার ভাঁজ বেড়েছে।

রাজনীতি মহলের মতে, এই বাংলো উচ্ছেদ কেবল একটি ঠিকানার পরিবর্তন নয়, বরং তৃণমূলের ভেঙে পড়া সাংগঠনিক কাঠামোরই প্রতিচ্ছবি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি লাগানো সাইনবোর্ড পুরনো ঠিকানায় ফিরে গেলেও, দলের হৃত গৌরব ফেরাতে এই বদল কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। আপাতত নাদিমুল হকের আশ্রয়ে তৃণমূলের দিল্লি মিশন টিকে থাকলেও, আগামী দিনে সাংসদদের এই দলত্যাগের ধারা অব্যাহত থাকলে জাতীয় রাজনীতিতে ঘাসফুল শিবিরের প্রভাব কতটুকু থাকবে, তা নিয়ে বড়সড় সংশয় তৈরি হয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy