‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ ষড়যন্ত্রের পর্দাফাঁস! মমতা-ইউনূস গোপন আঁতাত নিয়ে বিস্ফোরক দাবি প্রাক্তন কূটনীতিকের

পশ্চিমবঙ্গে ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গঙ্গার জল এখনও থিতু হয়নি। নবান্নে নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক ঘিরে যখন সাজ সাজ রব, ঠিক তখনই এক মহাবিস্ফোরক দাবিতে কেঁপে উঠল বাংলার রাজনীতির মাটি। প্রাক্তন প্রখ্যাত ভারতীয় কূটনীতিক দীপক বোহরা দাবি করেছেন, বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বাংলাদেশের তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের মধ্যে এক অত্যন্ত গোপন এবং সংবেদনশীল বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠকের আলোচ্য বিষয় ছিল ভারতের সার্বভৌমত্বের জন্য এক চরম অশনিসংকেত।

দীপক বোহরার অভিযোগ অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মহম্মদ ইউনূসকে এক চাঞ্চল্যকর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। প্রস্তাবটি ছিল পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশকে একীভূত করে একটি ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ বা ‘বৃহত্তর বাংলাদেশ’ গঠন করা। বোহরার দাবি, এই প্রস্তাবিত নতুন রাষ্ট্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার এবং মহম্মদ ইউনূসের রাষ্ট্রপতি হওয়ার পরিকল্পনা ছিল। বাংলাদেশের অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে বোহরা জানিয়েছেন, এটি কোনও সাধারণ আলোচনা ছিল না, বরং দীর্ঘদিনের এক গভীর নীল নকশার অংশ ছিল।

সোমবার নবান্নে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের ঠিক আগে এই খবর সামনে আসায় প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিজেপি নেতৃত্ব একে তৃণমূলের ‘দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র’ হিসেবে ব্যাখ্যা করছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়ে জানিয়েছেন, “যদি এই অভিযোগ বিন্দুমাত্র সত্য হয়, তবে এটি বাংলার মানুষের সাথে এবং দেশের সাথে সবথেকে বড় বিশ্বাসঘাতকতা। আমাদের সরকার এই বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করবে এবং প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে সত্য প্রকাশ্যে আনবে।”

তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য এই অভিযোগকে পুরোপুরি ‘ভিত্তিহীন’ এবং ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, নির্বাচনে হারার পর বিজেপি এবং গেরুয়া শিবিরের তল্পিবাহকরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে এই ধরনের মিথ্যে গল্প ফাঁদছে। তবে দীপক বোহরা তাঁর বক্তব্যে অনড়। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ডামাডোলের সুযোগ নিয়ে ভারতের অখণ্ডতাকে বিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’-এর এই তত্ত্ব যদি সত্যিই আলোচনার টেবিলে উঠে থাকে, তবে তা উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তা ও সীমান্ত সুরক্ষার জন্য এক বিধ্বংসী হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। অবৈধ অনুপ্রবেশ, সীমান্ত সংঘাত এবং সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের আবহে এই খবর সাধারণ মানুষের মধ্যেও তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। নবান্নে যখন পরিবর্তনের প্রথম দিন পালিত হচ্ছে, তখন এই ‘গোপন বৈঠকের’ ছায়া বাংলার রাজনীতিকে নতুন করে উত্তাল করে তুলল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy