রান্নার গ্যাসের তীব্র সঙ্কটে কার্যত অচল হওয়ার মুখে কলকাতা ও জেলা। ডেকার্স লেনের নামী খাবারের দোকান থেকে শুরু করে পাড়ার চায়ের দোকান—সবখানেই সিলিন্ডারের হাহাকার। অনেক দোকানদার ৩ হাজার টাকা দাম দিয়েও সিলিন্ডার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ। ফলে খাবারের মেনু কাটছাঁট করতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। কোথাও ময়দা মাখা অবস্থায় পড়ে থাকছে, কোথাও আবার বাধ্য হয়েই কয়লার উনুনের পুরনো ছবিতে ফিরছেন হোটেল মালিকরা। পরিস্থিতি এমনই যে, বৃহস্পতিবার থেকে একাধিক দোকান চিরতরে ঝাঁপ ফেলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
সাদার্ন অ্যাভিনিউয়ের মতো জায়গায় সিঙারা-নিমকি ভাজা বন্ধ হয়ে এখন কেবল চা-বিস্কুটের দোকানে পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতির আঁচ লেগেছে রানিগঞ্জ থেকে মেদিনীপুরের হোটেলগুলিতেও। ডিস্ট্রিবিউটারদের কাছেও বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের স্টক তলানিতে। কেবল বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেই নয়, ব্যাপক প্রভাব পড়েছে গণরান্না বা কমিউনিটি কিচেনগুলিতেও। গড়িয়াহাটের কমিউনিটি কিচেনে ডাল-ভাতের মেনু থেকে বাদ পড়েছে সয়াবিনের তরকারি। স্কুলের মিড-ডে মিলের ক্ষেত্রেও ডিমসিদ্ধ দিয়ে কোনোমতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছে। একদিকে বাড়তি খরচের বোঝা, অন্যদিকে জ্বালানিহীন রান্নাঘর—সব মিলিয়ে কবে এই সঙ্কট কাটবে, তা নিয়ে চরম উদ্বেগে আমজনতা ও ব্যবসায়ীরা।