কলকাতার ভোজনরসিকদের জন্য দুঃসংবাদ। মহানগরীর বিখ্যাত খাবারের আস্তানাগুলোতে এবার তালা পড়ার উপক্রম। ডেকাস লেনের স্ট্রিট ফুড থেকে শুরু করে পার্ক স্ট্রিটের নামী রেস্তোরাঁ— সর্বত্রই এখন ত্রাহি ত্রাহি রব। কারণ একটাই, রান্নার গ্যাসের জোগানে টান। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেক ছোট দোকান ইতিমধ্যেই ঝাঁপ বন্ধ করার কথা ভাবতে শুরু করেছে।
মূলত মধ্যপ্রাচ্যে ঘনিয়ে আসা যুদ্ধের কালো মেঘই এর প্রধান কারণ। ইরান ও ইজরায়েল-আমেরিকার সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেল ও গ্যাসের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে ‘স্ট্রেট অফ হরমুজ’ দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হওয়ায় ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে গ্যাসের জোগান ব্যাপকভাবে কমেছে। কেন্দ্র সরকার ইতিমধ্যেই গার্হস্থ্য ব্যবহারের সিলিন্ডার (১৪.২ কেজি) বাঁচানোর তাগিদে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের জোগানে রাশ টেনেছে। ফলে রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিং ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন।
কলকাতার ব্যবসায়ীদের দাবি, গত কয়েক দিনে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম হু হু করে বেড়েছে। শুধু তাই নয়, বুকিং করলেও মিলছে না ডেলিভারি। অনেক বড় চেইন রেস্তোরাঁ তাদের সেন্ট্রাল কিচেন আংশিক বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে। হোটেল অ্যাসোসিয়েশনগুলোর আশঙ্কা, আগামী কয়েক দিনে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে শহরের অর্ধেক খাবারের দোকান বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সাধারণ গৃহস্থদের জন্যও সময়টা কঠিন, কারণ নতুন নিয়ম অনুযায়ী দুটি সিলিন্ডার বুকিংয়ের মাঝে ২৫ দিনের ব্যবধান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সব মিলিয়ে গ্যাসের এই আকাল তিলোত্তমার রসনা তৃপ্তিতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।