তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রর সাম্প্রতিক একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, গুজরাটি সম্প্রদায়কে নিয়ে তাঁর বিতর্কিত মন্তব্য সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুরে। কৃষ্ণনগরের সাংসদের এই ‘আক্রমণাত্মক’ অবস্থান কি এবার তৃণমূলের অন্দরেই অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে? এই প্রশ্নই এখন জোরালো হচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।
ঘটনার সূত্রপাত মহুয়া মৈত্রর একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে, যেখানে তিনি নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর ব্যবসায়িক আধিপত্য এবং সংস্কৃতি নিয়ে সরব হয়েছিলেন। কিন্তু বিরোধীদের দাবি, তাঁর এই মন্তব্যের লক্ষ্য ছিল সাধারণ গুজরাটি মানুষও। এর ফলে কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ভবানীপুর, যেখানে প্রচুর সংখ্যক গুজরাটি ধর্মাবলম্বী মানুষের বাস, সেখানে ভোটব্যাঙ্কে বড় ধরনের ফাটল ধরার আশঙ্কা করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। ভবানীপুর এলাকায় এই সম্প্রদায়ের মানুষের রাজনৈতিক প্রভাব অনস্বীকার্য এবং অতীতে তাঁরা মমতার পাশে দাঁড়িয়েছেন।
বিজেপি এই ইস্যুটিকে হাতিয়ার করে ময়দানে নেমেছে। গেরুয়া শিবিরের দাবি, তৃণমূল সাংসদ সংকীর্ণ প্রাদেশিক রাজনীতি করছেন এবং একটি বিশেষ জনজাতিকে অপমান করছেন। অন্যদিকে, তৃণমূল নেতৃত্ব এই বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক। দলের একাংশ মনে করছেন, মহুয়ার ব্যক্তিগত মতামতকে দলের অবস্থান হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তবে ভোটের অংকের নিরিখে এই বিতর্ক যে ঘাসফুল শিবিরের জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে, সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এখন দেখার, এই ড্যামেজ কন্ট্রোলে নবান্ন বা তৃণমূল ভবন থেকে কোনো বিশেষ বার্তা দেওয়া হয় কি না।





