কালবৈশাখীর ঝড়ে লন্ডভন্ড দক্ষিণবঙ্গ। মঙ্গলবার বিকেলের পর থেকে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া শুরু হয়েছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে গাছ চাপা পড়ে এক মহিলার মৃত্যুর খবর মিলেছে (ঘটনাটি জেলার খবর অনুযায়ী আপডেট করা যেতে পারে)। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আজ রাতে এবং আগামীকালও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে দুর্যোগের মেঘ ঘনিয়ে থাকবে।
কোন কোন জেলায় লাল ও কমলা সতর্কতা? আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের বুলেটিন অনুযায়ী, আজ রাতে ও বুধবার বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে নিচের জেলাগুলোতে:
লাল সতর্কতা (Red Alert): বীরভূম, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান এবং বাঁকুড়ায় শিলাবৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার দাপট সবথেকে বেশি থাকতে পারে।
কমলা সতর্কতা (Orange Alert): কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং নদীয়া। এই জেলাগুলিতে ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০-৭০ কিমি ছাড়িয়ে যেতে পারে।
মহিলার মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা: ঝড়-বৃষ্টির দাপটে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় গাছ পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। এরই মধ্যে মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় এক মহিলার প্রাণ হারিয়েছেন। প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, বজ্রপাতের আশঙ্কা থাকায় বৃষ্টির সময় কাউকে খোলা আকাশের নিচে না থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মৎস্যজীবীদের সমুদ্র থেকে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আগামী ৪৮ ঘণ্টা ট্রলার নিয়ে জলে নামার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে।
কেন এই প্রবল দুর্যোগ? হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প ঢুকছে এবং গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের ওপর একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা সক্রিয় রয়েছে। এর ফলেই মরসুমের অন্যতম শক্তিশালী কালবৈশাখীর সাক্ষী থাকছে দক্ষিণবঙ্গ।
প্রশাসনের গাইডলাইন:
ঝড়ের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকুন, কাঁচা বাড়ি বা ইলেকট্রিক পোলের কাছে দাঁড়াবেন না।
বজ্রপাত শুরু হলে মোবাইল ব্যবহার থেকে বিরত থাকার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
চাষিদের খেতের ফসল ও গবাদি পশুকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।





