বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মেয়াদ এখন কার্যত শেষের কাউন্টডাউন শুরু করেছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর এক অস্থির সময়ে দেশের হাল ধরেছিলেন এই নোবেলজয়ী। কিন্তু নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই প্রশ্ন—প্রধান উপদেষ্টার গুরুদায়িত্ব পালনের পর ড. ইউনূস ঠিক কোন পথে হাঁটবেন? তিনি কি সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেবেন, নাকি ফিরে যাবেন তাঁর পরিচিত সেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে?
সূত্র বলছে, ৮৫ বছর বয়সী এই ব্যক্তিত্বের সামনে একাধিক পথ খোলা রয়েছে। প্রথমত, ড. ইউনূস বরাবরই নিজেকে রাজনীতির উর্ধ্বে রাখতে পছন্দ করেন। তাই তাঁর নিজস্ব দল গঠনের সম্ভাবনা ক্ষীণ হলেও, দেশের সংস্কার প্রক্রিয়ায় তিনি দীর্ঘমেয়াদী কোনো উপদেষ্টা বা পথপ্রদর্শক হিসেবে থেকে যেতে পারেন। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর অভিজ্ঞতা এবং বিশ্বনেতাদের সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি কোনো বড় আন্তর্জাতিক সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হতে পারেন। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন বা দারিদ্র্য বিমোচনের মতো বৈশ্বিক ইস্যুতে তাঁর নেতৃত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
তবে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তাঁর বিদায় পরবর্তী অধ্যায় মোটেও চ্যালেঞ্জমুক্ত হবে না। তাঁর আমলে নেওয়া বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের আইনি ন্যায্যতা এবং দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা নিয়ে আলোচনা চলবে দীর্ঘকাল। ড. ইউনূস কি ‘রোল মডেল’ হিসেবে বিদায় নেবেন নাকি পর্দার আড়াল থেকে প্রভাব ধরে রাখবেন, তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল তুঙ্গে। আপাতত তিনি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের দিকেই মনোনিবেশ করছেন। তবে তাঁর পরবর্তী গন্তব্য যে নিছক অবসর নয়, বরং নতুন কোনো বিশ্ব-মিশন—এমনটাই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।