ভারতের জনতাত্ত্বিক ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে চলেছে। ২০২৭ সালের আসন্ন আদমশুমারিতে এবার আর কাগজ-কলমের ব্যবহার নয়, বরং পুরো প্রক্রিয়াটি হবে সম্পূর্ণ ডিজিটাল। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে এই মেগা অভিযানের জন্য ৪টি অত্যাধুনিক ডিজিটাল টুল এবং দুটি সরকারি ম্যাসকট— ‘প্রগতি’ (নারী) ও ‘বিকাশ’ (পুরুষ) উন্মোচন করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে নারী-পুরুষের সমান অংশীদারিত্বের প্রতীক হিসেবে এই ম্যাসকট দুটিকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
৪টি ডিজিটাল টুলের কাজ কী? আদমশুমারিকে নির্ভুল ও স্বচ্ছ করতে যে চারটি প্ল্যাটফর্ম আনা হয়েছে, সেগুলি হলো: ১. হাউসলিস্টিং ব্লক ক্রিয়েটর (HLBC): স্যাটেলাইট ইমেজের সাহায্যে প্রতিটি এলাকার ডিজিটাল ম্যাপিং করা হবে, যাতে কোনো বাড়ি গণনার বাইরে না থাকে। ২. HLO মোবাইল অ্যাপ: এটি একটি নিরাপদ অফলাইন অ্যাপ। গণনাকারীরা ইন্টারনেটের সাহায্য ছাড়াই বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে পরে তা সার্ভারে আপলোড করতে পারবেন। ৩. সেলফ-এনুমারেশন পোর্টাল: এটি সাধারণ মানুষের জন্য সবথেকে বড় সুবিধা। নাগরিকরা চাইলে নিজেই এই পোর্টালে গিয়ে ১৬টি ভাষায় পরিবারের তথ্য আপলোড করতে পারবেন। ৪. CMMS পোর্টাল: পুরো প্রক্রিয়াটি রিয়েল-টাইমে মনিটর বা নজরদারি করার জন্য এই ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করা হবে।
কবে থেকে শুরু এই প্রক্রিয়া? স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে খবর, ২০২৭ সালের এই জনশুমারি হবে বিশ্বের বৃহত্তম ডিজিটাল এক্সারসাইজ। প্রথম দফার কাজ (হাউসলিস্টিং) শুরু হবে ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে। আর মূল জনসংখ্যা গণনা হবে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। উল্লেখ্য, এবারের শুমারিতে সাধারণ তথ্যের পাশাপাশি জাতিভিত্তিক গণনার (Caste Enumeration) সংস্থানও রাখা হচ্ছে।
অমিত শাহ জানিয়েছেন, আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এই তথ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়া আরও বৈজ্ঞানিক ও বহুমুখী হবে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে তথ্য সংগৃহীত হওয়ায় তা বিশ্লেষণ করা এবং সরকারি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া অনেক সহজ হবে। প্রায় ৩০ লক্ষ গণনাকারী ও আধিকারিক এই বিশাল কর্মযজ্ঞের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন।