দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে আপসহীন মনোভাব স্পষ্ট করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সংসদের অধিবেশনে দাঁড়িয়ে অতিবামপন্থী উগ্রবাদ বা মাওবাদী সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি। শাহ সাফ জানিয়েছেন, গণতন্ত্রে বুলেট বা বন্দুকের কোনো স্থান নেই। যারা উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে এবং দেশের সংবিধানকে অস্বীকার করে হিংসার পথ বেছে নেবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবে না সরকার।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এদিন পরিসংখ্যান তুলে ধরে দাবি করেন, গত কয়েক বছরে দেশে মাওবাদী কার্যকলাপের পরিধি নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে। আগে যেখানে কয়েকশো জেলা ‘লাল করিডোর’-এর আওতায় ছিল, এখন তা হাতেগোনা কয়েকটি পকেটে সীমাবদ্ধ। শাহ বলেন, “আমরা ছত্তিশগড় থেকে শুরু করে ওড়িশা—প্রতিটি কোণ থেকে এই বিষাক্ত আদর্শকে নির্মূল করতে বদ্ধপরিকর। হয় অতিবামরা হিংসা ছেড়ে মূল স্রোতে ফিরুক, নয়তো নিরাপত্তা বাহিনীর চরম প্রত্যাঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকুক।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, শাহের এই মন্তব্য মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে বড়সড় অভিযানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, সরকার কেবল সামরিক শক্তিতে নয়, বরং পরিকাঠামোগত উন্নয়ন এবং আদিবাসী এলাকাগুলোতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পৌঁছে দিয়ে অতিবামদের ভিত্তি উপড়ে ফেলতে চায়। সংসদে তাঁর এই কড়া বার্তার পর লাল করিডোর সংলগ্ন রাজ্যগুলোতে বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় কেন্দ্র যে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে, অমিত শাহের বক্তব্য তা আরও একবার প্রমাণ করল।