২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের মুখে ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া (SIR) নিয়ে যে আইনি লড়াই চলছিল, তাতে এক ঐতিহাসিক মোড় এল। সুপ্রিম কোর্ট বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) এক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশে জানিয়েছে, নির্বাচনের ঠিক দু’দিন আগে পর্যন্ত যদি কোনো ভোটার ট্রাইব্যুনাল থেকে ছাড়পত্র বা ক্লিয়ারেন্স পান, তবে তিনি ভোট দিতে পারবেন। এই সিদ্ধান্তকেই নিজের ‘নৈতিক জয়’ হিসেবে দেখছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মমতার উচ্ছ্বাস ও প্রতিক্রিয়া: কোচবিহারের জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত আনন্দিত মেজাজে বলেন, “আজ আমার চেয়ে খুশি কেউ নয়! আমিই এই এসআইআর (SIR) নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিলাম। আমি বারবার বলছিলাম যে ষড়যন্ত্র করে লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। আজ সুপ্রিম কোর্টও মেনে নিল যে ভোটের মুখেও অধিকার ফেরানো সম্ভব। এটা মানুষের জয়।”
দলের প্রতি বিশেষ নির্দেশ: আদালতের এই পর্যবেক্ষণ আসার পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের ব্লক ও বুথ স্তরের কর্মীদের জন্য বিশেষ নির্দেশ জারি করেছেন:
ট্রাইব্যুনালে সহায়তা: প্রতিটি এলাকায় যাদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের চিহ্নিত করে দ্রুত ট্রাইব্যুনালে আবেদন জানাতে এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র জোগাড় করতে সাহায্য করতে হবে।
সতর্ক নজরদারি: ভোটার তালিকায় কোনোভাবে যেন আর ‘কারচুপি’ না হয়, সেদিকে বুথ স্তরের কর্মীদের কড়া নজর রাখতে হবে।
ভোট নিশ্চিত করা: ট্রাইব্যুনাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়া ভোটাররা যাতে বুথে গিয়ে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কর্মীদের নিতে হবে।
সুপ্রিম কোর্টের মূল পর্যবেক্ষণ: শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, ভোটাধিকার একটি সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার। ট্রাইব্যুনালে যারা নিজেদের নাম বৈধ বলে প্রমাণ করতে পারবেন, তাঁদের ভোট দেওয়ার সুযোগ দিতেই হবে। এমনকি নির্বাচনের অত্যন্ত কাছাকাছি সময়েও যদি ছাড়পত্র পাওয়া যায়, তবে প্রশাসনকে সেই ভোটারদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
বিশেষ মন্তব্য: রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রায় ৯১ লক্ষ নাম বাদ পড়া নিয়ে যে বিতর্ক দানা বেঁধেছিল, সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশে তৃণমূলের অবস্থান আরও শক্তিশালী হলো। নির্বাচনের মুখে এটি বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূলের বড় অস্ত্র হতে চলেছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘খুশি’ কি শেষ পর্যন্ত ভোটের ব্যালট বক্সেও প্রতিফলিত হবে? ট্রাইব্যুনাল থেকে কতজন ভোটার নিজেদের অধিকার ফিরে পান, এখন সেটাই দেখার।





