খোল-করতাল আর ঢাকের বাদ্যি! নোয়াপাড়ায় অর্জুন সিংয়ের ‘দাবাং’ প্রচার, কাঁপছে তৃণমূলের দুর্গ?

একদিকে রাজনৈতিক লড়াই, অন্যদিকে উৎসবের আমেজ—এই দুইয়ের মিশেলে নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রে জমে উঠেছে বিজেপির প্রচার। নোয়াপাড়ার বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং এদিন কার্যত শক্তি প্রদর্শন করলেন এলাকায়। চিরাচরিত স্লোগানের বদলে খোল, করতাল আর ঢাকের তালে বর্ণাঢ্য মিছিল বের করেন তিনি। সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে গিয়ে তিনি বার্তা দিলেন, “এবার ভোট হবে শুধুমাত্র উন্নয়নের নিরিখে।” উত্তর ২৪ পরগনার এই শিল্পাঞ্চল এলাকায় অর্জুনের এই প্রচার স্টাইল বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।

উন্নয়নই কি তুরুপের তাস? প্রচারে বেরিয়ে অর্জুন সিং স্পষ্ট জানিয়েছেন, গত কয়েক দশকে নোয়াপাড়া তথা ভাটপাড়া শিল্পাঞ্চল যে তিমিরে ছিল, তা থেকে বের করে আনাই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। তাঁর কথায়, “মানুষ আর মিথ্যে প্রতিশ্রুতিতে ভুলবে না। কেন্দ্রীয় সরকারের জনমুখী প্রকল্প এবং স্থানীয় উন্নয়নের নিরিখে মানুষ এবার ইভিএমে জবাব দেবে।” প্রচারের মাঝে অর্জুনকে দেখা যায় বৃদ্ধাদের আশীর্বাদ নিতে এবং শিশুদের সঙ্গে খুনসুটি করতে, যা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা বাড়াচ্ছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

খোল-করতাল ও ঢাকের উন্মাদনা: অর্জুনের মিছিলে এদিন দলীয় পতাকার পাশাপাশি ছিল খোল ও করতাল নিয়ে কীর্তনীয়া দল এবং বিশাল ঢাকের বাহিনী। হিন্দুত্ব এবং লোকসংস্কৃতিকে এক সুতোয় বেঁধে ভোটারদের মন জয়ের এই কৌশল যথেষ্ট নজর কেড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘ সময় পর এলাকায় এমন জাঁকজমকপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি দেখা গেল। বিশেষ করে যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে অর্জুনের উপস্থিতি ব্যাপক উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে।

বিরোধীদের কটাক্ষ: তৃণমূলের পক্ষ থেকে অবশ্য এই প্রচারকে ‘গিমিক’ বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘাসফুল শিবিরের দাবি, ঢাক বাজিয়ে মানুষের পেটের টান মেটানো যায় না। মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের পক্ষেই রায় দেবেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নোয়াপাড়ার লড়াই এবার হাড্ডাহাড্ডি হতে চলেছে। অর্জুন সিংয়ের এই ‘রাজকীয়’ প্রচার পদ্ম শিবিরকে কতটা অক্সিজেন দেয়, সেটাই এখন দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy