আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-এর মৃত্যু বিশ্ব রাজনীতিতে কম্পন ধরিয়ে দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন থেকে শুরু করে ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু—সবাই এই মৃত্যুকে ‘ন্যায়বিচার’ হিসেবে দেখছেন। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে ভারতের নীরবতা এখন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই ইস্যুতে সরাসরি কোনো শোক প্রকাশ না করে বরং ‘সংলাপ ও কূটনীতির’ ওপর জোর দিয়েছেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানান, ভারত শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ভারত আসলে জাতীয় স্বার্থকে সবার আগে স্থান দিচ্ছে। খামেনেই জীবিত থাকাকালীন ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে অন্তত চারবার কাশ্মীর ও দিল্লির দাঙ্গা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছিলেন, যা দিল্লির জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর ছিল।
অন্যদিকে, জি-৭ ভুক্ত কোনো দেশই খামেনেই-এর মৃত্যুতে শোকজ্ঞাপন করেনি। এমনকি সৌদি আরব বা সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর মতো প্রভাবশালী মুসলিম দেশগুলোও হয় নীরব থেকেছে, নয়তো পশ্চিমী শক্তির সুরেই কথা বলেছে। ভারতও সেই পথেই হেঁটেছে। অতীতে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকারও পরমাণু ইস্যুতে তিনবার ইরানের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিল। বর্তমান এনডিএ সরকারও ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতেই এই কৌশলী অবস্থান নিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।