শনিবার এক ভয়াবহ বিমান হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ অভিযানে এই ঘটনা ঘটার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ইরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, এই হত্যার বিচার তারা আদায় করেই ছাড়বে এবং শত্রুর সামনে মাথা নোয়ানোর কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে এই শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে তেহরান এখন সামরিক প্রস্তুতির পথে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (IRGC) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইজরায়েল ও আমেরিকার এই দুঃসাহসের ফল হবে মারাত্মক। তারা কোনো আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করেই ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হেনেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খামেনেইয়ের প্রস্থান ইরানের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ইরান তাদের পরবর্তী নেতার নাম ঘোষণা না করলেও, খামেনেইয়ের রেখে যাওয়া ‘প্রতিরোধের অক্ষ’ (Axis of Resistance) আরও সক্রিয় হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে। হিজবুল্লাহ, হামাস এবং হুতি বিদ্রোহীরা ইতিমধ্যেই ইরানের পাশে দাঁড়িয়ে বদলা নেওয়ার শপথ নিয়েছে।
অন্যদিকে, হোয়াইট হাউস ও তেল আবিব এই অভিযানকে ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জয়’ হিসেবে দেখছে। কিন্তু ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি এবং যুদ্ধের সাজসাজ রব নতুন করে বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা উসকে দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, ইরান ঠিক কীভাবে এই ‘ন্যায়বিচার’ আদায় করে। বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে এর প্রভাব এবং কূটনীতির জল কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে আন্তর্জাতিক মহল।