মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন যুদ্ধের কালো মেঘে ঢাকা। ইজরায়েল ও তার মিত্রশক্তির যৌথ হামলায় যখন ইরানসহ সংলগ্ন এলাকাগুলো তপ্ত, ঠিক তখনই দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে একটি খবর—ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি আর নেই। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও কূটনৈতিক মহলে চলা এই মৃত্যু-জল্পনা সজোরে উড়িয়ে দিল তেহরান। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, খামেনি সম্পূর্ণ সুস্থ এবং তিনি নিয়মিত প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করছেন।
সাম্প্রতিক যৌথ হামলার পর থেকেই খামেনির জনসমক্ষে না আসা এই জল্পনাকে উসকে দিয়েছিল। পশ্চিমা কিছু গোয়েন্দা রিপোর্ট দাবি করেছিল, গুরুতর অসুস্থতা বা হামলার জেরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। কিন্তু ইরান পাল্টা বার্তায় জানিয়েছে, এই ধরনের খবর ছড়ানো হচ্ছে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে। খামেনির একটি সাম্প্রতিক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তেহরান প্রমাণ করতে চাইছে যে, দেশের রাশ এখনো তাঁর শক্ত হাতেই রয়েছে।
এদিকে, রণংদেহি মেজাজ ছেড়ে ইরান এখন সংঘাত কমানোর (De-escalation) ইঙ্গিত দিচ্ছে। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে দেশ। তাই তেহরান এখন আলোচনার টেবিলে বসার পরোক্ষ বার্তা দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলের একাংশের দাবি, খামেনির ‘জীবিত’ থাকার খবরটি সামনে এনে ইরান আসলে নিজেদের স্থিতিশীলতা প্রদর্শন করতে চাইছে, যাতে শত্রুপক্ষ কোনো চরম সিদ্ধান্ত না নেয়। পরিস্থিতি যেদিকেই যাক, খামেনির সুস্থতা এবং তেহরানের নমনীয় সুর আপাতত বিশ্ববাজার ও তেলের রাজনীতিতে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে।