২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে এক বিশাল চমক দেখা গেল। অনেক জল্পনা চলেও শেষ পর্যন্ত খগেশ্বর রায়ের ভাগ্যে শিকে ছিঁড়ল না। তার পরিবর্তে হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে শেষ মুহূর্তে মনোনয়ন জমা দিলেন এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মণ।
খগেশ্বরের বিদায়? দীর্ঘদিন ধরে জলপাইগুড়ির রাজনীতিতে খগেশ্বর রায়ের নাম ঘোরাফেরা করছিল। দলের অন্দরে তাঁর অনুগামীরা একপ্রকার নিশ্চিত ছিলেন যে টিকিট তিনিই পাবেন। কিন্তু প্রার্থী তালিকা ঘোষণার শেষ লগ্নে স্বপ্নার নাম আসায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। খগেশ্বর শিবিরের একাংশ এই সিদ্ধান্তে দৃশ্যত হতাশ হলেও, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশ মেনে নেওয়ার বার্তা দিয়েছেন।
কেন স্বপ্না বর্মণ? অর্জুন পুরস্কারপ্রাপ্ত এই খেলোয়াড় কেবল জলপাইগুড়ি নয়, গোটা বাংলার গর্ব। রাজনীতির কারবারিদের মতে, স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এবং তরুণ প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয়তাকে হাতিয়ার করতেই স্বপ্নাকে ময়দানে নামানো হয়েছে। উত্তরবঙ্গের ঘরের মেয়েকে সামনে রেখে নারী শক্তি এবং যুব ভোটারদের মন জয় করতে চাইছে দল।
মনোনয়ন পেশের পর স্বপ্না: এদিন মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর স্বপ্না বর্মণ জানান, “খেলার মাঠে লড়াই করেছি দেশের জন্য, এবার লড়াই করব মানুষের জন্য। দল আমার ওপর ভরসা রেখেছে, আমি আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।” খগেশ্বর রায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তিনি আমাদের বড় বড় নেতা, তাঁর আশীর্বাদ নিয়েই আমি এগিয়ে যাব।”
স্বপ্নার এই এন্ট্রি জলপাইগুড়ির নির্বাচনী লড়াইকে এক নতুন মাত্রা দিল। মাঠের ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের লড়াইয়ের পর এবার রাজনীতির ময়দানে কতটা সফল হন এই হেপাট্যাথলিট, সেটাই এখন দেখার।





