সুরক্ষা এবং নিরাপত্তা নিয়ে বারবার প্রশ্নের মুখে পড়া যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) ক্যাম্পাসে এবার প্রাক্তন সেনাকর্মীদের টহল। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে আজ মঙ্গলবার থেকেই কাজে যোগ দিয়েছেন দু’জন সুপারভাইজার এবং ৩০ জন প্রাক্তন সেনাকর্মী। রাজ্যের কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাক্তন সেনাকর্মীরা এভাবে টহল দিচ্ছেন, এমন ঘটনা বেনজির।
কেন এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ?
গত কয়েক বছরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, যা ক্যাম্পাসের নিরাপত্তাহীনতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। বিশেষত, র্যাগিংয়ের জেরে হস্টেলে এক তরতাজা ছাত্রের মৃত্যু এবং কিছুদিন আগে জলে ডুবে এক ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়ে লাগাতার প্রশ্ন উঠছিল। এমনকি এই নিয়ে মামলাও আদালতে বিচারাধীন।
এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিজেদের নিরাপত্তারক্ষী এবং রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি, রাজ্য সৈনিক বোর্ড থেকে প্রাক্তন সেনাকর্মীদের নিয়োগ করেছেন।
নিরাপত্তা মজবুত করার বার্তা:
আজ ক্যাম্পাসে নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়ে প্রাক্তন এক সেনাকর্মী বলেন, “সেনাতে চাকরি করার পর, রাজ্যের সৈনিক বোর্ডের মাধ্যমে আমরা নিয়োগপত্র পাই। এখানকার নিরাপত্তা মজবুত করতে পাঠানো হয়েছে। দু’জন সুপারভাইজার ও ৩০ জন গার্ড এসেছি ক্যাম্পাসকে নিরাপদ রাখার জন্য।”
আরেক প্রাক্তন সেনাকর্মী জানান, “আমরা প্রত্যেকেই সেনায় চাকরি করতাম, প্রাক্তন সেনাকর্মী। আমাদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতার উপর নির্ভর করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গোটা ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা দেখব, যাতে আগের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।”
জানা গেছে, প্রাক্তন সেনাকর্মীরা নিরস্ত্র অবস্থাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে টহল দেবেন।
নতুন উপাচার্যের দ্বৈত দায়িত্ব:
প্রসঙ্গত, অতি সম্প্রতিই প্রায় আড়াই বছর পর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী উপাচার্য পেয়েছে। নতুন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। তিনি একই সঙ্গে দুই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।