চার্লস ডারউইনের বিবর্তনের তত্ত্ব এখন যুদ্ধের ময়দানেও ধ্রুব সত্য। গতানুগতিক যুদ্ধের মোড় ঘুরে গেছে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং নিখুঁত প্রযুক্তির দিকে। দীর্ঘকাল ধরে যুদ্ধের শক্তি পরিমাপ করা হতো বিমানবাহী রণতরী বা দামী যুদ্ধবিমান দিয়ে। কিন্তু বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় এই প্ল্যাটফর্ম-কেন্দ্রিক যুদ্ধের যুগ যেন অস্তমিত।
গত দুই বছরে লোহিত সাগরে মার্কিন সামরিক অভিযানে প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেও হুথি বিদ্রোহীদের পুরোপুরি থামাতে ব্যর্থতা প্রমাণ করে যে, কেবল ব্যয়বহুল সরঞ্জাম জয় নিশ্চিত করতে পারে না। একদিকে একটি মার্কিন জেরাল্ড ফোর্ড-শ্রেণির রণতরী নির্মাণে ১৩.৩ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়, অন্যদিকে ইরান বিশাল নৌবাহিনী ছাড়াই কেবল সস্তা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে পরাশক্তিকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।
‘অপারেশন সিন্ধুর’ কিংবা সাম্প্রতিক বিভিন্ন সংঘাতেও দেখা গেছে, আকাশপথের বিশাল বাহিনীর চেয়ে পদাতিক বাহিনীর নিখুঁত গোলাবর্ষণ এবং দূরপাল্লার নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহার অনেক বেশি কার্যকর। বর্তমানে যুদ্ধের মূল মন্ত্র হয়ে উঠেছে—’সর্বনিম্ন খরচে সর্বাধিক প্রভাব’। লক্ষ লক্ষ ডলারের ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হাজার ডলারের ড্রোন ভূপাতিত করা কেবল ব্যয়বহুল নয়, বরং এটি সামরিক কৌশলগত ভারসাম্যের অভাবকেও তুলে ধরছে। যুদ্ধের ভবিষ্যৎ এখন বৃহৎ প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং নেটওয়ার্ক-ভিত্তিক প্রযুক্তি এবং ড্রোনের দখলে। দামী সরঞ্জামের মোহ ত্যাগ করে আধুনিক সামরিক বাহিনীকে এখন দ্রুত পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন, অন্যথায় এই ভুল পরিকল্পনার মাশুল দিতে হবে সাধারণ সৈন্য ও দেশবাসীকে।





