২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের মহড়া কি তবে মেদিনীপুরের মাটি থেকেই শুরু হয়ে গেল? রবিবার কেশপুরের আনন্দপুর হাইস্কুল গ্রাউন্ডের জনসভা থেকে অন্তত সেই ইঙ্গিতই দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জনজোয়ারের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি সাফ জানালেন, কেশপুরের রাজনৈতিক ইতিহাস আর জনসমর্থনের দাপটে খড়কুটোর মতো উড়ে যাবে বিরোধীরা।
“কেশপুর হবে বিজেপির শেষপুর” এদিন মঞ্চ থেকে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে অভিষেক বলেন, “যতদিন কেশপুর আছে, ততদিন সিপিএম-বিজেপির জল্লাদরা গোটা পশ্চিম মেদিনীপুরে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না।” তাঁর এই একটি মন্তব্যেই কার্যত পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে যে, আগামী নির্বাচনে কেশপুরকে তৃণমূলের দুর্ভেদ্য দুর্গ হিসেবেই দেখতে চান তিনি। তাঁর দাবি, ২০২৬ সালে কেশপুর থেকেই বিজেপির বিদায় ঘণ্টা বেজে যাবে।
সিপিএম-বিজেপিকে কড়া নিশানা: বিরোধী দলগুলোকে একযোগে আক্রমণ করে অভিষেক বলেন:
অতীতের স্মৃতি: কেশপুর একসময় রাজনৈতিক হিংসার জন্য পরিচিত ছিল। বাম আমলের সেই অস্থিরতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, মানুষ এখন শান্তি আর উন্নয়নের পথ বেছে নিয়েছে।
পরিষেবার কার্ড: রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলোই তৃণমূলের প্রধান অস্ত্র। বিশেষ করে গ্রামীণ রাস্তাঘাট ও পানীয় জলের উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষ পাচ্ছেন বলে তিনি দাবি করেন।
বিভ্রান্তির রাজনীতি: বিজেপি ও সিপিএম শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে বলে তোপ দাগেন তিনি।
রাজনৈতিক সমীকরণ: বিশ্লেষকদের মতে, কেশপুরের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় দাঁড়িয়ে অভিষেকের এই আত্মবিশ্বাসী সুর আদতে নিচুতলার কর্মীদের চাঙ্গা করার কৌশল। লোকসভা ভোটের আগে এবং ২০২৬-এর লক্ষ্য সামনে রেখে পশ্চিম মেদিনীপুরের রাজনৈতিক রাশ নিজেদের হাতেই রাখতে মরিয়া ঘাসফুল শিবির।
বিজেপি বা সিপিএম-এর পক্ষ থেকে অবশ্য এই মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া আসা এখন সময়ের অপেক্ষা। তবে রবিবারের এই সভা থেকে এটা স্পষ্ট যে, মেদিনীপুরের রাজনীতির ময়দান আগামী দিনে আরও উত্তপ্ত হতে চলেছে।





