বঙ্গ রাজনীতিতে কালীঘাট মানেই অলিখিতভাবে শাসকদলের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু সেই কালীঘাটকে কেন্দ্র করেই এবার এক বিস্ফোরক দাবি করে বসলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার ভারতীয় জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পৈতৃক বাসভবন পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। সেখান থেকে বেরিয়ে আসার সময় তাঁর একটি বিশেষ মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।
এদিন শ্যামাপ্রসাদের বাসভবন ‘৭৭ আশুতোষ মুখার্জি রোড’-এ শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যান শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকে বেরিয়ে আসার সময় তাঁকে একসময়ের রাজনৈতিক অবস্থান এবং বর্তমান লড়াই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কিছুটা আধ্যাত্মিক এবং রাজনৈতিক মিশ্রণে উত্তর দেন। বিরোধী দলনেতা বলেন, “একসময় কালীঘাটের মায়ের আশীর্বাদ আমার ওপর ছিল। আর সেই কারণেই আমি ওই সময় বড় বড় কাজ করতে পেরেছিলাম।”
শুভেন্দুর এই ‘কালীঘাটের মা’ সম্বোধন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে দ্বিমুখী ব্যাখ্যা শুরু হয়েছে। অনেকে মনে করছেন তিনি সরাসরি দক্ষিণেশ্বর বা কালীঘাট মন্দিরের আধ্যাত্মিক আশীর্বাদের কথা বুঝিয়েছেন। আবার রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, মেদিনীপুরের ভূমিপুত্রের এই মন্তব্যের নিশানায় আসলে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কারণ, শুভেন্দু যখন তৃণমূলে ছিলেন, তখন তিনি দলের অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু আরও জানান, আজ বাংলার যা পরিস্থিতি, তাতে ডঃ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শই একমাত্র পথ দেখাতে পারে। তাঁর মতে, শ্যামাপ্রসাদ না থাকলে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অংশই হতো না। বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “যাঁরা বাংলার ইতিহাস বিকৃত করতে চাইছে, তাঁদের সময় ঘনিয়ে এসেছে।”
নির্বাচনের প্রাক্কালে শুভেন্দু অধিকারীর মুখে ‘কালীঘাটের আশীর্বাদ’ আর ‘শ্যামাপ্রসাদের আদর্শ’—এই দুইয়ের মেলবন্ধন কি স্রেফ আবেগ, নাকি এর পিছনে লুকিয়ে আছে গভীর কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ? উত্তর খুঁজছে বঙ্গ রাজনীতি।





