কালিয়াচকের সেই ১০ শিশুর মৃত্যুর আতঙ্ক ফের বাংলায়! সুস্বাদু এই ফলের আড়ালে লুকিয়ে কোন মারাত্মক সিনড্রোম?

গরমের মরশুম আসতেই বাজার ছেয়ে গেছে লাল-সবুজ রসালো লিচুতে। কিন্তু এই সুস্বাদু ফলের আড়ালেই এবার লুকিয়ে রয়েছে এক মারাত্মক বিপদ, যা নিয়ে রীতিমতো ঘুম উড়েছে জেলা প্রশাসনের। মরশুমের শুরুতেই অপরিপক্ক বা কাঁচা লিচুতে বাজার ভরে যাওয়ায় নতুন করে থাবা বসাতে পারে মারাত্মক ‘লিচি সিনড্রোম’ (Lychee Syndrome)। কয়েক বছর আগের এক হাড়হিম করা ঘটনার স্মৃতি উস্কে দিয়েই এবার মালদার কালিয়াচক-সহ সংলগ্ন জেলাগুলিতে আগাম সতর্কতা জারি করেছে স্বাস্থ্য দপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন।

চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্বেগের পিছনে রয়েছে এক ভয়ঙ্কর অতীত। বিগত বছরগুলিতে এই কালিয়াচক এলাকাতেই কাঁচা বা আধপাকা লিচু খেয়ে ‘লিচি সিনড্রোমে’ আক্রান্ত হয়ে ১০ থেকে ১২ জন নিষ্পাপ শিশুর অকালমৃত্যু হয়েছিল। মূলত খালি পেটে অপরিপক্ক বা কাঁচা লিচু খাওয়ার ফলে শিশুদের শরীরে শর্করার মাত্রা বা গ্লুকোজ আচমকা মারাত্মকভাবে কমে যায়, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ‘হাইপোগ্লাইসেমিয়া’ নামে পরিচিত। এর জেরে তীব্র খিঁচুনি, বমি এবং অচেতনতার মতো উপসর্গ দেখা দেয় এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা না মিললে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

এই বছর মরশুমের শুরুতেই একশ্রেণীর ব্যবসায়ী বেশি মুনাফার আশায় গাছ থেকে অপরিপক্ক ও রাসায়নিক দিয়ে পাকানো কাঁচা লিচু বাজারে নিয়ে আসায় নতুন করে প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতিমধ্যেই মালদা এবং সংলগ্ন গ্রামীণ এলাকাগুলিতে প্রশাসনের তরফে বিশেষ নজরদারি দল গঠন করা হয়েছে। বাজারগুলিতে ক্ষতিকর রাসায়নিক ও কাঁচা লিচুর বিক্রি রুখতে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার কাজ শুরু হয়েছে।

স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে মা-বাবাদের উদ্দেশ্যে কড়া নির্দেশিকা জারি করে জানানো হয়েছে, কোনো অবস্থাতেই যেন শিশুদের খালি পেটে লিচু খেতে দেওয়া না হয়। বাজারে লিচু কেনার সময় তা সম্পূর্ণ পাকা এবং পরিপুষ্ট কিনা, তা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। কালিয়াচকের সেই মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে প্রশাসন এবার প্রথম থেকেই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy