কাটোয়া স্টেশনে ট্রেনে আগুন: নাশকতার ছক না দুর্ঘটনা? উত্তর খুঁজতে প্ল্যাটফর্মে ফরেনসিক টিম

পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা ৫৩৪৩৫ আপ কাটোয়া-আজিমগঞ্জ প্যাসেঞ্জার ট্রেনের একটি বগিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের রহস্য দানা বাঁধছে। রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ যখন স্টেশনে যাত্রীসংখ্যা নামমাত্র, তখন হঠাৎ দাউদাউ করে জ্বলতে শুরু করে ট্রেনের একটি কামরা। সোমবার ওই ঘটনার নমুনা সংগ্রহ করতে কাটোয়ায় পৌঁছল ৮ সদস্যের একটি ফরেনসিক দল, যার মধ্যে ৪ জন কেন্দ্রীয় এবং ৪ জন রাজ্য ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ রয়েছেন।

তদন্তে উঠে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্য:

  • শর্ট সার্কিটের সম্ভাবনা কম: রেল আধিকারিকদের মতে, সাধারণত ট্রেন ছাড়ার আগে কারশেড বা প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকাকালীন ইলেকট্রিক সংযোগ বন্ধ থাকে। ট্রেনটি সকাল ৬টা ০৫ মিনিটে ছাড়ার কথা ছিল, অথচ আগুন লেগেছে ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে। ফলে ওই সময় শর্ট সার্কিট হওয়া কার্যত অসম্ভব।

  • নাশকতার আশঙ্কা: সিসিটিভি ফুটেজে ট্রেনের কামরার আশেপাশে কয়েকজনের সন্দেহজনক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে রেলের অনুমান, বাইরে থেকে দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে কেউ বা কারা আগুন লাগিয়ে থাকতে পারে।

  • ফরেনসিক পরীক্ষা: ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা পুড়ে যাওয়া কামরার নমুনা, ছাই এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন। তাঁরা নিশ্চিত হতে চাইছেন যে পেট্রোল বা অন্য কোনো দাহ্য তরলের চিহ্ন সেখানে আছে কি না।

সৌভাগ্যবশত, ট্রেনটি ফাঁকা থাকায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। রেলের পক্ষ থেকে এই ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই ৫ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায় কমিটির গঠন করা হয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy