দীর্ঘদিনের জল্পনায় সিলমোহর দিয়ে এবার প্লাস্টিক বা পলিমার কারেন্সি চালুর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিলেন রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা। শুক্রবার দ্বিমাসিক মুদ্রানীতি বৈঠকের পর তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, দেশে প্লাস্টিকের নোট চালু করার প্রস্তাবটি নিয়ে কাজ শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।
কেন প্লাস্টিক নোটের কথা ভাবছে RBI? ডিজিটাল লেনদেন বা UPI-এর রমরমা সত্ত্বেও বাজারে নগদ অর্থের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। গত ১৫ মে-র তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাজারে ৪২.৮৬ ট্রিলিয়ন টাকার নগদ অর্থ প্রচলিত রয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ কাগজের নোট সামলাতে আরবিআই-এর দুটি বড় সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে:
আকাশছোঁয়া খরচ: ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে নোট ছাপানোর খরচ এক ধাক্কায় ৬,৩৭২.৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
নোটের স্থায়িত্ব: ২০২৫ অর্থবর্ষে প্রায় ২৩.৮ বিলিয়ন পিস ছেঁড়া ও ময়লা নোট বাজার থেকে তুলে নিতে হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ককে, যার বড় অংশই ৫০০ ও ১০০ টাকার নোট।
প্লাস্টিকের নোট কাগজের চেয়ে অনেক বেশি টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় তা ছাপানোর খরচ ও ব্যবস্থাপনার ঝামেলা অনেকটাই কমাতে পারবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পুরনো পরিকল্পনা, নতুন উদ্যোগ: প্লাস্টিক নোটের এই পরিকল্পনা কিন্তু নতুন নয়। এর আগে ২০১৪ সালে দেশের পাঁচটি শহরে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে পলিমার নোট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে তা সফল হয়নি। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে আরবিআই গভর্নর জানান, “পলিমার নোট চালুর প্রস্তাবটি আমাদের বিবেচনাধীন রয়েছে। এর সুবিধা-অসুবিধা ও আর্থিক লাভজনকতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
যদিও বিষয়টি বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তবুও কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের এই ইঙ্গিত যে ভবিষ্যতে আমাদের পকেটে থাকা কাগজের টাকার বদলে প্লাস্টিক কারেন্সি আসার পথ প্রশস্ত করছে, তা বলাই বাহুল্য।





