রাজনৈতিক পালাবদলের জেরে কলকাতা পুরনিগমের বোর্ড ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই শহরবাসীর পরিষেবার নিরবচ্ছিন্নতা বজায় রাখা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্ন। পুরনিগমের স্বাভাবিক কাঠামো ভেঙে প্রশাসক নিযুক্ত হওয়ার পর এবার সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক উদ্যোগ নিলেন পুর কমিশনার ও প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে। তিনি রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে চিঠি লিখে জানতে চেয়েছেন, আসন্ন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডগুলিতে প্রাক্তন কাউন্সিলরদের কি ‘কো-অর্ডিনেটর’ হিসেবে নিয়োগ করা সম্ভব?
উল্লেখ্য, করোনাকালের জরুরি পরিস্থিতিতেও রাজ্য সরকার কলকাতা পুরনিগমে বোর্ড অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর নিয়োগ করেছিল। সেই সময় প্রতিটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের কো-অর্ডিনেটর পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, যাতে আপৎকালীন পরিষেবা এবং নাগরিকদের অভাব-অভিযোগ নিরসনে কোনো ফাঁক না থাকে। বর্তমানে তৃণমূল পরিচালিত বোর্ড ভেঙে যাওয়ার পর মেয়র পদ থেকে ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফা এবং পরবর্তী রাজনৈতিক জটিলতায় পুর প্রশাসন এখন পুরোপুরি কমিশনারের হাতে।
পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নতুন মেয়র নির্বাচিত করতে না পারার কারণে পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বোর্ডের সদস্য, মেয়র পারিষদ এবং কাউন্সিলরদের পদ তাৎক্ষণিকভাবে বিলুপ্ত হওয়ার ফলে এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে পুর কর্তৃপক্ষের সরাসরি সংযোগের ক্ষেত্রে এক শূন্যতা তৈরি হয়েছে। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কোনো বিকল্প নেই, যারা এলাকার উন্নয়ন ও পরিষেবার দাবি-দাওয়া সরাসরি কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন।
পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডের মতে, সাধারণ মানুষের পুর পরিষেবা নিশ্চিত করতে হলে জনপ্রতিনিধিদের থাকা অত্যন্ত জরুরি। প্রাক্তন কাউন্সিলররা এতদিন ওই ওয়ার্ডগুলোর দায়িত্ব সামলেছেন, তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাঁদেরকেই কো-অর্ডিনেটর হিসেবে পুনরায় কাজে লাগানো হলে নাগরিকরা উপকৃত হবেন। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে পুর প্রশাসন। মন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়া মাত্রই এই বিষয়ে চূড়ান্ত রূপরেখা ঠিক করা হবে। পুর কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।





