কলকাতা কর্পোরেশনের কেন্দ্রীয় ভবনেই মেয়াদ উত্তীর্ণ ফায়ার এক্সটিংগুইসার, অগ্নি নির্বাপণ বিষয়ে চরম উদাসীনতা ফাঁস

কলকাতা কর্পোরেশনের কেন্দ্রীয় ভবন, যা মহানগরীর প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু এবং যেখানে কোটি কোটি গুরুত্বপূর্ণ নথি মজুত আছে, সেখানেই অগ্নি নির্বাপণ বিষয়ে চরম উদাসীনতার ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ভবনের একাধিক জায়গায় সার দিয়ে ঝুলছে মেয়াদ উত্তীর্ণ ফায়ার এক্সটিংগুইসার, যা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় নজরদারিতে বড়সড় ঢিলেমি রয়েছে।

যেন ‘সর্ষের মধ্যেই ভূত’, এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় উঠেছে বড় অভিযোগ। অভিযোগ, অনেক ফায়ার এক্সটিংগুইসারে মেয়াদের স্টিকার বদলানো হলেও, ভিতরে থাকা রাসায়নিক বা পাউডার সময়মতো বদলানো হয় কি না, তা নিয়ে ঘোর সংশয় রয়েছে।

কলকাতা কর্পোরেশনের এক আধিকারিক এই বিষয়ে বলেন, “আমাদের নিয়মিত অগ্নি নির্বাপণ সিলিন্ডারগুলি রিফিলিং করা হয়। তাতে মেয়াদের উল্লেখ থাকে। কিছু ক্ষেত্রে সম্প্রতি সেটা উত্তীর্ণ হলে আমরা আবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে খবর দিই। হতে পারে এমন কিছু থাকলেও থাকতে পারে। সেটা ওরা এসে ফের রিফিল করে দেবে।”

অন্যদিকে চলছে বাজারের ফায়ার অডিট

কেন্দ্রীয় ভবনের অগ্নি নিরাপত্তা নিয়ে এই ঢিলেমি চললেও, শহরের বিভিন্ন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে পুর-বাজারগুলিতে জোর কদমে চলছে ফায়ার অডিট। কর্পোরেশনের বাজার বিভাগ, ইঞ্জিনিয়ারিং, লাইট বিভাগ, পুলিশ এবং দমকল যৌথ ভাবে এই অডিট চালাচ্ছে।

  • ইতিমধ্যে বাঁশদ্রোণী, লেক রোড, পার্ক সার্কাস-সহ মোট ১৩টি মার্কেটে ফায়ার অডিট সম্পন্ন হয়েছে।

  • প্রথম পর্ব শেষে আরও পাঁচটি বাজারে অডিট শুরু হতে চলেছে। তৃতীয় ধাপে আরও কয়েকটি বাজার অন্তর্ভুক্ত হবে।

  • কর্তৃপক্ষের দাবি, বাজারগুলিতে বহু লোকজনের আনাগোনা থাকে। তাই সেগুলোর নিরাপত্তা দিক নজরে রেখেই অডিট চলছে এবং পুর-নিরাপত্তা কর্মীদের কয়েক মাস আগে আগুন নেভানোর প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।

পুর-কর্তৃপক্ষ বাজারগুলির নজরদারিতে সক্রিয় হলেও, যেখানে মহানগরের প্রশাসনিক কাজকর্ম এবং কোটি কোটি নথি রাখা আছে, সেই কেন্দ্রীয় ভবনের দিকেই নজরদারিতে এই গাফিলতি কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy