অপেক্ষার আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। আগামীকাল, বুধবার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণ। ৭টি জেলার মোট ১৪২টি আসনের ওপর নির্ভর করছে বাংলার মসনদ কার দখলে যাবে। কলকাতা থেকে সুন্দরবন, জঙ্গলমহল থেকে গঙ্গার পাড়— সর্বত্রই এখন সাজ সাজ রব। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক জেলাভিত্তিক শক্তি ও লড়াইয়ের ময়দান:
১. কলকাতা (১১টি আসন): ক্লিন সুইপ না কি থাবা?
মূল কেন্দ্র: ভবানীপুর, রাসবিহারী, মানিকতলা।
অতীত সমীকরণ: ২০২১ সালে এখানে স্কোর ছিল তৃণমূল ১১, বিজেপি ০। কিন্তু ২০২৪ লোকসভায় শ্যামপুকুর ও জোড়াসাঁকোর মতো আসনে বিজেপি লিড নিয়ে শাসকদলকে কড়া টক্করের বার্তা দিয়ে রেখেছে।
২. উত্তর ২৪ পরগণা (৩৩টি আসন): মতুয়া ভোট ও শহরতলির লড়াই
নজরে: সন্দেশখালি, পানিহাটি, বরানগর, কামারহাটি।
সমীকরণ: গত বিধানসভায় তৃণমূল ২৮টি আসন পেলেও, ২০২৪-এর লোকসভা অনুযায়ী বাগদা, বনগাঁ, ভাটপাড়া এবং বিধাননগরের মতো ৮টি গুরুত্বপূর্ণ আসনে লিড রয়েছে বিজেপির। ফলে এখানে লড়াই হবে সেয়ানে সেয়ানে।
৩. দক্ষিণ ২৪ পরগণা (৩১টি আসন): তৃণমূলের খাসতালুক
নজরে: যাদবপুর, টালিগঞ্জ, ভাঙড়।
সমীকরণ: এই জেলা কার্যত তৃণমূলের ‘দুর্গ’। গতবার ৩০টি আসন জিতেছিল তারা, ১টি ছিল আইএসএফ-এর দখলে। লোকসভা নির্বাচনেও এই জেলার সব আসনেই লিড ছিল ঘাসফুল শিবিরের।
৪. হাওড়া ও পূর্ব বর্ধমান (৩২টি আসন): ঘাসফুলের শক্ত ঘাঁটি
হাওড়া (১৬): গতবার সবকটি আসনেই জিতেছিল তৃণমূল। শিবপুর ও বালির দিকে এবারও নজর থাকবে সবার।
পূর্ব বর্ধমান (১৬): কৃষিপ্রধান এই জেলায় ২০২১ ও ২০২৪— দুবারই তৃণমূল ১০০ শতাংশ সাফল্য পেয়েছে। এবারও কাটোয়া বা মেমারিতে বড় কোনো ওলটপালট হয় কি না, সেটাই দেখার।
৫. হুগলি (১৮টি আসন): সিঙ্গুর থেকে আরামবাগের লড়াই
নজরে: সিঙ্গুর, চন্দননগর, চুঁচুড়া, তারকেশ্বর।
সমীকরণ: গতবার তৃণমূল ১৪টি আসন জিতলেও ২০২৪ লোকসভায় ছবিটা কিছুটা বদলেছে। চুঁচুড়া, সপ্তগ্রাম ও গোঘাটের মতো ৬টি বিধানসভা আসনে লিড পেয়েছিল বিজেপি।
৬. নদিয়া (১৭টি আসন): বিজেপির সেরা সুযোগ
নজরে: কৃষ্ণনগর উত্তর, শান্তিপুর, রানাঘাট।
সমীকরণ: এই জেলাটি বিজেপির জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী। গত বিধানসভায় বিজেপি ৯টি আসন জিতে তৃণমূলকে পিছনে ফেলেছিল। রানাঘাট লোকসভা এলাকায় বিজেপির দাপট এবারও শাসকদলের চিন্তার কারণ।
উপসংহার: দ্বিতীয় দফার এই ১৪২টি আসনই বাংলার ক্ষমতার চাবিকাঠি। একদিকে যেমন তৃণমূলের গড় বাঁচানোর লড়াই, অন্যদিকে বিজেপির সামনে সুযোগ গত লোকসভার লিডগুলোকে জয়ে রূপান্তরিত করার। রাত পোহালেই ভাগ্য নির্ধারিত হবে হেভিওয়েট প্রার্থীদের।





