তিলোত্তমায় এখন উৎসবের আনন্দ নয়, বরং উনুন না জ্বলার হাহাকার। রান্নার গ্যাসের (LPG) তীব্র সংকটে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে কলকাতার একাংশের জনজীবন। পরিস্থিতি এতটাই সঙ্গিন যে, গত সাত দিন ধরে বুকিং করেও রান্নার গ্যাস মিলছে না বলে অভিযোগ শহরবাসীর। ফলে বাধ্য হয়েই একবেলা শুকনো খাবার বা চিড়ে-মুড়ি খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে হাজার হাজার পরিবারকে।
শহরের বিভিন্ন ডিস্ট্রিবিউটর পয়েন্টে লম্বা লাইন চোখে পড়ছে প্রতিদিন। কেউ আসছেন সাত দিন আগে করা বুকিংয়ের খবর নিতে, কেউ আবার খালি সিলিন্ডার নিয়ে হন্যে হয়ে ঘুরছেন। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে গেলেই মিলছে কেবল আশ্বাসের বাণী। কিন্তু বাস্তবে বাড়িতে গ্যাস পৌঁছাচ্ছে না। দক্ষিণ কলকাতার এক বাসিন্দা জানান, “গত সোমবার গ্যাস শেষ হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গেই বুকিং করেছিলাম। সাত দিন পার হয়ে গেল, কিন্তু ডিস্ট্রিবিউটর বলছেন স্টকে গ্যাস নেই। এখন ছোট ইলেকট্রিক স্টোভে কোনোমতে চাল-ডাল ফুটিয়ে দিন চালাচ্ছি। তাও লোডশেডিং হলে কপালে কেবল চিঁড়ে-মুড়ি জুটছে।”
মূলত সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার কারণেই এই সংকট তৈরি হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে। কিছু ডিস্ট্রিবিউটরের দাবি, প্ল্যান্ট থেকে সিলিন্ডার আসাতে দেরি হচ্ছে। অন্যদিকে, তেলের সংস্থাগুলো সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার দাবি করলেও বাস্তবের চিত্রটা একদমই উল্টো। অনেক ক্ষেত্রেই অভিযোগ উঠছে কালোবাজারির। সাধারণ মানুষের জন্য নির্ধারিত সিলিন্ডার চড়া দামে হোটেল বা রেস্তোরাঁগুলোতে পাচার করে দেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
এই সংকটের প্রভাব পড়ছে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর ওপর সবচেয়ে বেশি। যাদের বিকল্প হিসেবে ইন্ডাকশন ওভেন বা মাইক্রোওয়েভ কেনার ক্ষমতা নেই, তাঁদের রান্নাঘর এখন কার্যত শুনশান। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ ও শিশুদের পুষ্টির অভাব দেখা দিচ্ছে রান্নার অভাবে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে হস্তক্ষেপ এবং সিলিন্ডার সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।