বারাসতের দুই নার্সের শরীরে মারণ নিপা ভাইরাসের হদিস মিলতেই ঘুম উড়েছে তিলোত্তমার। আতঙ্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন খোদ কলকাতার ফুসফুস— আলিপুর চিড়িয়াখানা। শহরের বুকে বাদুড়ের অন্যতম বড় আস্তানা এই চিড়িয়াখানা। তাই কোনো ঝুঁকি না নিয়ে শনিবার সাতসকালেই সেখানে হানা দিল ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি (NIV) এবং ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (ICMR)-এর এক উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ দল।
সাতসকালে রুদ্ধশ্বাস অভিযান: শনিবার ঘড়ির কাঁটায় তখনো সকাল ৯টা বাজেনি। সাধারণ পর্যটকদের জন্য চিড়িয়াখানার গেট খোলার আগেই বন দপ্তর ও স্বাস্থ্য দপ্তরের বিশেষ টিম পৌঁছে যায় আলিপুরে। উদ্দেশ্য ছিল অত্যন্ত গোপনীয় এবং জরুরি— চিড়িয়াখানার বাদুড়দের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা। বন দপ্তরের বিশেষ অনুমতি নিয়ে এই বিশেষজ্ঞ দলটি বাদুড়দের রক্ত ও সোয়াবের নমুনা সংগ্রহ করে। নিপা সংক্রমণের বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই তৎপরতা।
কেন এই সতর্কতা? চলতি মাসেই উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালের দুই স্বাস্থ্যকর্মীর শরীরে নিপা ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়ে। এরপর থেকেই নড়েচড়ে বসেছে স্বাস্থ্য ভবন। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, নিপা ভাইরাসের প্রধান বাহক হলো ফ্রুট ব্যাট বা গেছো বাদুড়। আলিপুর চিড়িয়াখানার গাছে গাছে হাজার হাজার বাদুড়ের বাস। ফলে সেখান থেকে যাতে কোনোভাবেই সংক্রমণ লোকালয়ে না ছড়ায়, তাই এই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা।
প্রোটোকল মেনে পরীক্ষা: আলিপুর চিড়িয়াখানার ডিরেক্টর তৃপ্তি শাহ এই অভিযান প্রসঙ্গে জানান, “পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সতর্কতা এবং নির্দিষ্ট প্রোটোকল মেনে সম্পন্ন হয়েছে। বাদুড়দের থেকে সোয়াব নমুনা নেওয়া হয়েছে। ভয়ের কোনো কারণ নেই, এটি একটি রুটিন সার্ভেইল্যান্সের অংশ।” রাজ্যের চিফ ওয়াইল্ডলাইফ ওয়ার্ডেন সন্দীপ সুন্দরিয়াল জানিয়েছেন, শুধু আলিপুর নয়, মধ্যমগ্রাম, বারাসত ও বসিরহাটেও বাদুড়দের ওপর RT-PCR পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।
রিপোর্টের অপেক্ষায় কলকাতা: আইসিএমআর-এর সংগৃহীত এই নমুনাগুলো ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই রিপোর্ট আসার কথা। যদি রিপোর্টে ভাইরাসের অস্তিত্ব মেলে, তবে শহর কলকাতায় বড়সড় পদক্ষেপ নিতে পারে প্রশাসন। আপাতত বারাসত থেকে আলিপুর— নিপা আতঙ্কে কার্যত কাঁপছে বাংলা।