ভারত ও ভারতীয় সাংবাদিকতার ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল চিরতরে হারিয়ে গেল। দীর্ঘ অসুস্থতার পর রবিবার দিল্লির সাকেতের ম্যাক্স হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন প্রবীণ সাংবাদিক ও প্রখ্যাত লেখক স্যার মার্ক টুলি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।
কলকাতার ছেলে থেকে বিশ্বখ্যাত সাংবাদিক
১৯৩৫ সালের ২৪ অক্টোবর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন মার্ক টুলি। ভারতের মাটির সঙ্গে তাঁর নাড়ির টান ছিল অবিচ্ছেদ্য। টানা ২২ বছর ধরে তিনি বিবিসি (BBC)-র নয়াদিল্লি ব্যুরো প্রধান হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন। জরুরি অবস্থার দিনগুলি থেকে শুরু করে ভারতের রাজনৈতিক পালাবদল—প্রতিটি বড় ঘটনার বিশ্লেষণে তাঁর কণ্ঠস্বর ছিল কোটি কোটি মানুষের কাছে ধ্রুবতারার মতো।
পুরস্কার ও স্বীকৃতি
ভারতীয় সমাজ ও রাজনীতির প্রতি তাঁর অগাধ ভালোবাসা এবং নির্ভীক সাংবাদিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ ভারত সরকার ২০০৫ সালে তাঁকে পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত করে। এছাড়াও ২০০২ সালে ব্রিটিশ রাজপরিবারের পক্ষ থেকে তিনি নাইটহুড উপাধি পান।
ঘনিষ্ঠ বন্ধু সতীশ জ্যাকবের শোকবার্তা: > প্রবীণ সাংবাদিক ও মার্ক টুলির দীর্ঘদিনের সহকর্মী সতীশ জ্যাকব অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে পিটিআই-কে বলেন, “আজ বিকেলে সাকেত হাসপাতালেই মার্ক আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন।” ২১ জানুয়ারি কিডনির সমস্যা নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।
কালজয়ী লেখনী
শুধু মাইক্রোফোন হাতে নয়, কলম ধরলেও তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ভারতের ওপর তাঁর লেখা বই—‘No Full Stops in India’, ‘The Heart of India’ এবং ‘India in Slow Motion’ আজও সমাজবিজ্ঞানের ছাত্র ও পাঠকদের কাছে আকর গ্রন্থ হিসেবে পরিচিত। বিবিসি রেডিও ৪-এর জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘Something Understood’ উপস্থাপনার মাধ্যমেও তিনি বিশ্বজুড়ে খ্যাতি পেয়েছিলেন।
মার্ক টুলির প্রয়াণ কেবল একটি সংবাদপত্রের শিরোনাম নয়, বরং একটি যুগের অবসান। তিনি ছিলেন সেই বিরল বিদেশি সাংবাদিক, যিনি ভারতকে দেখেছিলেন খুব কাছ থেকে, ভালোবেসেছিলেন নিজের দেশের মতো করে।