কয়লা সিন্ডিকেটে ৬৫০ কোটির দুর্নীতি! ইডির হাতে চাঞ্চল্যকর নথি, এবার কি রাঘব বোয়ালদের পালানোর পথ বন্ধ? ২. বাংলার কয়লা কাণ্ডে ৬৫০ কোটির পা

পশ্চিমবঙ্গে কয়লা পাচার এবং সিন্ডিকেট চক্র নিয়ে তদন্তে নেমে ফের বিস্ফোরক দাবি করল ইডি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই চক্রের মাধ্যমে অন্তত ৬৫০ কোটি টাকার নয়ছয় করা হয়েছে। বুধবার শহর কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি এবং বাজেয়াপ্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখে এই বিপুল অঙ্কের দুর্নীতির হিসেব পেশ করেছেন তদন্তকারীরা।

কীভাবে চলত এই বিশাল সিন্ডিকেট?

ইডির গোয়েন্দাদের দাবি, খনি এলাকা থেকে অবৈধভাবে কয়লা তুলে তা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন কলকারখানায় চড়া দামে বিক্রি করা হতো। এই গোটা প্রক্রিয়ায় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, পুলিশ আধিকারিক এবং কয়লা মাফিয়াদের একটি ত্রিভুজ আঁতাত কাজ করত।

  • কালো টাকা সাদা করার কৌশল: দুর্নীতির এই টাকা ভুয়ো সংস্থা বা ‘শেল কোম্পানি’র মাধ্যমে সম্পত্তিতে বিনিয়োগ করা হয়েছে বলে ইডি সূত্রে খবর।

  • বিদেশে অর্থ পাচার: তদন্তকারীদের সন্দেহ, ৬৫০ কোটির একটি বড় অংশ বিদেশেও পাচার করা হয়ে থাকতে পারে।

ইডির নজরে প্রভাবশালীরা

তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, বাজেয়াপ্ত করা ডায়েরি এবং ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ থেকে বেশ কিছু প্রভাবশালীর নাম সামনে এসেছে। সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই এই দুর্নীতির জালে জড়িয়ে থাকা আরও বেশ কয়েকজনকে তলব করতে পারে ইডি। ইতিমধ্যেই কয়েকজন অভিযুক্তকে জেরা করে এই ৬৫০ কোটি টাকার লেনদেনের যোগসূত্র মেলা শুরু হয়েছে।

বিরোধীদের আক্রমণ

এই তথ্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। বিরোধীদের দাবি, “কয়লার কালো টাকায় অনেকেরই পকেট ভরেছে, এবার আসল সত্যিটা সামনে আসুক।” অন্যদিকে, শাসক শিবির থেকে বরাবরের মতোই একে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে অভিহিত করা হয়েছে।

বিশেষ তথ্য: ইডির দাবি অনুযায়ী, কেবল বীরভূম ও আসানসোল শিল্পাঞ্চলেই এই সিন্ডিকেট চক্রের সবচেয়ে বেশি সক্রিয়তা ছিল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy