মঙ্গলবার সকালে লোকসভায় এক নজিরবিহীন উত্তেজনার সৃষ্টি হল। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে তাঁর পদ থেকে অপসারণের লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। স্পিকারকে সরানোর প্রস্তাব আনতে চেয়ে লোকসভায় নোটিশ জমা দিয়েছে বিরোধী শিবির। কংগ্রেসের উপ-দলনেতা গৌরব গগৈ জানিয়েছেন, এই নোটিশে কংগ্রেস, ডিএমকে এবং সমাজবাদী পার্টি-সহ একাধিক বিরোধী দলের প্রায় ১২০ জন সাংসদ স্বাক্ষর করেছেন।
তৃণমূলের রহস্যময় দূরত্ব এই মেগা পদক্ষেপের মধ্যেও সবচেয়ে বড় চমক হয়ে দাঁড়িয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের ভূমিকা। সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, ১২০ জন সাংসদ সই করলেও ওই তালিকায় তৃণমূলের কোনো সাংসদ স্বাক্ষর করেননি। কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল এই প্রস্তাব থেকে নিজেদের দূরে রাখল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই দিল্লির রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তবে কি বিরোধী ঐক্যে ফাটল দেখা দিল, নাকি এটি তৃণমূলের কোনো রণকৌশল?
কী কারণে এই সংঘাত? বিরোধীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, লোকসভা পরিচালনায় স্পিকার একতরফা সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন এবং বিরোধী সাংসদদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিভিন্ন বিতর্কের সময় মাইক বন্ধ রাখা বা সাসপেনশনের মতো কড়া পদক্ষেপ নেওয়ায় ক্ষোভ জমা হয়েছিল বিরোধী শিবিরে। সেই ক্ষোভ থেকেই এবার ওম বিড়লাকে কুর্সি থেকে সরাতে মরিয়া হয়ে উঠল কংগ্রেস-সহ বন্ধু দলগুলি।
পরবর্তী পদক্ষেপ কী? নিয়ম অনুযায়ী, এই নোটিশ গ্রহণ করার পর নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ভোটাভুটি হওয়ার কথা। সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে বিজেপি বা এনডিএ জোট এখনও এগিয়ে থাকলেও, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বিরোধীরা সংসদীয় রাজনীতিতে এক বড়সড় নৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে চাইছে। এখন দেখার, এই হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসে।