রাজ্যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি-র (ED) তৎপরতা নিয়ে রাজনীতিতে অনেকবারই শোরগোল পড়েছে। কিন্তু এবার যা ঘটল, তা সম্ভবত নজিরবিহীন। আইপ্যাক (I-PAC) অফিসে ইডি-র তল্লাশি চলাকালীন খোদ মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছে গিয়ে ফাইল ছিনিয়ে নিয়েছেন! শনিবার উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে এমনই এক বিস্ফোরক দাবি করে রাজ্য রাজনীতিতে আগুন ধরিয়ে দিলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ।
সবুজ ফাইলের ‘রহস্য’ ও জেল যাত্রা
জলপাইগুড়িতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ দাবি করেন, আইপ্যাকের অফিসে ইডি হানা দিয়েছিল। খবর পেয়েই সেখানে তড়িঘড়ি পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিলীপের কথায়, “ইডি-র হাত থেকে একটি নির্দিষ্ট ফাইল ছিনিয়ে নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কারণ ইডি-র হাতে ওই ফাইল চলে গেলে এই সরকার আজই পড়ে যাবে!”
এখানেই থামেননি তিনি। তাঁর বিখ্যাত ছন্দে আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “ওই সবুজ ফাইল পেলে, দিদি যাবে জেলে।”
“এবার ফাইল চোর দেখলাম”
রাজ্যের নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে একাধিক মামলায় ইডি-সিবিআই তদন্ত চলছে। কিন্তু সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্তে বাধা দেওয়ার এমন অভিযোগ আগে কখনও শোনা যায়নি। দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ, “এতদিন অনেক রকম চোর দেখেছি, এবার ফাইল চোর দেখলাম! কেন ওই ফাইলটা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এত আতঙ্কিত? কী আছে ওই সবুজ ফাইলের ভেতরে?”
আইপ্যাক ও সরকার পতনের জল্পনা
দিলীপ ঘোষের দাবি অনুযায়ী, আইপ্যাকের অফিসে এমন কিছু গোপন নথি রয়েছে যা ফাঁস হয়ে গেলে রাজ্য সরকারের স্থায়িত্ব প্রশ্নের মুখে পড়বে। তাঁর মতে, আইপ্যাক কেবল একটি পরামর্শদাতা সংস্থা নয়, তারা প্রশাসনের অন্দরে ঢুকে এমন কিছু তথ্য নিয়ন্ত্রণ করছে যা আইনত দণ্ডনীয়। সেই তথ্য ইডি-র হাত থেকে বাঁচাতেই মুখ্যমন্ত্রী নিজে ময়দানে নেমেছেন বলে দাবি এই বিজেপি নেতার।
রাজনৈতিক উত্তেজনা
দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে এখনও সরকারিভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া না পাওয়া গেলেও, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ‘সবুজ ফাইল’ এবং ‘ফাইল ছিনতাই’ ইস্যুটি আগামী কয়েকদিন রাজ্য রাজনীতিকে তপ্ত রাখবে।