ঐহিকা-সুতীর্থার পর বাংলার নয়া সেনসেশন অঙ্কোলিকা! দেড় বছরের মধ্যে জাতীয় দলে খেলার চ্যালেঞ্জ

ভারতের টেবল টেনিস মানচিত্রে ঐহিকা মুখোপাধ্যায় বা সুতীর্থা মুখোপাধ্যায়ের উত্তরসূরি কে হতে চলেছেন? উত্তরটা বোধহয় এখন সময়ের অপেক্ষা। সিমলায় অনুষ্ঠিত দক্ষিণ এশীয় যুব চ্যাম্পিয়নশিপে অনূর্ধ্ব-১৫ বিভাগে সিঙ্গলস এবং মিক্সড ডাবলস— দুই ক্যাটাগরিতেই সোনা জিতে এখন পাদপ্রদীপের আলোয় নৈহাটির মেয়ে অঙ্কোলিকা চক্রবর্তী। ইটিভি ভারতের সঞ্জয় অধিকারীকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে অঙ্কোলিকা জানিয়ে দিলেন, তাঁর পরবর্তী লক্ষ্য এবার অনেক উঁচুতে।

সাফল্যের খতিয়ান ও লক্ষ্য: সিমলায় ভারতের হয়ে ১৩টি সোনার পদক জয়ের অভিযানে অঙ্কোলিকা ছিলেন অন্যতম কাণ্ডারি। বিশ্ব ক্রমপর্যায়ে বর্তমানে অনূর্ধ্ব-১৫ বিভাগে মেয়েদের মধ্যে ৫ নম্বরে থাকা এই প্যাডলারের সাফ কথা:

  • সিনিয়র টিমে নজর: অঙ্কোলিকার আত্মবিশ্বাসী উক্তি, “আমি আর দেরি করতে চাই না। আগামী এক-দেড় বছরের মধ্যেই ভারতের সিনিয়র দলের জার্সি গায়ে খেলতে চাই।”

  • প্রত্যাশা চাপ নয়: বাংলা টেবল টেনিসের ‘ভবিষ্যৎ’ তকমা কি বাড়তি চাপ তৈরি করছে? অঙ্কোলিকা হাসিমুখে জানালেন, “মানুষের প্রত্যাশাকে আমি চাপ হিসেবে দেখি না, বরং এটা আমার কাছে অনুপ্রেরণা।”

সাফল্যের ‘সিক্রেট’ রেসিপি: নৈহাটি সেন্ট লুকস ডে স্কুলের এই ছাত্রী তাঁর সাফল্যের পেছনে কঠোর পরিশ্রমের কথা জানিয়েছেন। মার্চ মাস জুড়ে বাড়িতে থাকাকালীন প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা ঘড়ি ধরে অনুশীলনই তাঁকে প্রতিযোগিতায় অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছিল। ফিটনেস এবং শটের বৈচিত্র্যে নিজেকে আরও নিখুঁত করতে মরিয়া প্রসেনজিৎ সরকার ও তাপসী সরকারের এই সুযোগ্য ছাত্রী।

পরবর্তী লক্ষ্য: অঙ্কোলিকার চোখে এখন একঝাঁক স্বপ্ন। আগামী মাসে ব্যাংককে ইউটিটি চ্যাম্পিয়নশিপ এবং জুনে ওমানে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপই এখন তাঁর পাখির চোখ। সিন্ড্রেলা দাসের মতো বন্ধুদের সাফল্যের সাথে পাল্লা দিয়ে নিজেকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করতে চান তিনি।

উপসংহার: নৈহাটির গলি থেকে উঠে আসা অঙ্কোলিকার এই অদম্য জেদ আজ বাংলার ক্রীড়াপ্রেমীদের মনে নতুন আশার আলো জাগিয়েছে। দেড় বছরের মধ্যে সিনিয়র দলে খেলার যে চ্যালেঞ্জ তিনি নিয়েছেন, তা সফল হলে ভারতের টিটি জগত এক নতুন তারকাকে পেতে চলেছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy