যানজট এবং জনদুর্ভোগ কমাতে এবার বড়সড় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল প্রশাসন। কলকাতার রাস্তা আটকে জুম্মার নমাজ পড়া পুরোপুরি বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিবর্তে, সরকারি নিয়ম ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এখন থেকে নির্দিষ্ট ধর্মীয় স্থানে বা মসজিদে দুটি ভিন্ন শিফটে জুম্মার নমাজ অনুষ্ঠিত হবে।
কী জানা যাচ্ছে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী? দীর্ঘদিন ধরেই কলকাতার ব্যস্ত রাস্তাগুলোতে শুক্রবারের নমাজ ঘিরে যানজটের অভিযোগ উঠছিল। সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটা ও জরুরি পরিষেবার গাড়ি আটকে পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন এবং ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে আলোচনার সূত্রপাত হয়। সেই আলোচনার ভিত্তিতেই এই নতুন পথ বের করা হয়েছে।
নতুন নিয়মের খুঁটিনাটি:
রাস্তা সম্পূর্ণ মুক্ত: কোনোভাবেই রাস্তার ওপর জাঁকিয়ে বসে বা চাদর বিছিয়ে নমাজ পড়া যাবে না। রাস্তা পুরোপুরি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে।
২ শিফটে প্রার্থনা: যেহেতু ভিড় সামাল দেওয়া একটি চ্যালেঞ্জ, তাই মসজিদের অভ্যন্তরে বা নির্দিষ্ট চত্বরে জায়গা সংকুলান না হলে, দুটি ভিন্ন সময়ে (শিফটে) জুম্মার নমাজ আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর ফলে একই সময়ে প্রচুর মানুষ রাস্তায় জমায়েত না করে ধাপে ধাপে প্রার্থনা করতে পারবেন।
স্বচ্ছ সমন্বয়: প্রশাসনের পক্ষ থেকে মসজিদের ইমাম ও কমিটিগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন প্রতিটি শিফটের সময়কাল এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি স্থানীয় থানার সঙ্গে সমন্বয় রেখে করা হয়।
প্রশাসনের বার্তা: প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “মানুষের আবেগ এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল, কিন্তু একই সঙ্গে শহরের যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।” এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের অনেকেই, যাঁরা দীর্ঘকাল ধরে রাস্তায় জট তৈরির ফলে সৃষ্ট ভোগান্তির কথা তুলে ধরেছিলেন।
এই ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার পর কলকাতা শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা কতটা সহজ হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
শহরের যানজট বা জনদুর্ভোগ সংক্রান্ত এই ধরণের সিদ্ধান্তকে আপনি কীভাবে দেখছেন, আপনার ব্যক্তিগত কোনো মতামত কি রয়েছে?





