দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এক বড় মাইলফলক স্পর্শ করল ভারত। বিশ্বের অন্যতম শিল্পপতি গৌতম আদানির সংস্থা ‘আদানি পোর্টস অ্যান্ড স্পেশাল ইকোনমিক জোন’ (APSEZ) আর্জেন্টিনার প্রথম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) রপ্তানি প্রকল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ১০ বছরের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির ফলে দক্ষিণ আমেরিকার বাজারে আদানির যেমন সরাসরি উপস্থিতি নিশ্চিত হলো, তেমনই ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও সুদৃঢ় হওয়ার পথ প্রশস্ত হলো।
চুক্তির মূল বিষয়গুলো এক নজরে:
চুক্তির মেয়াদ ও মূল্য: প্রায় ৭০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা) মূল্যের এই চুক্তিটি ১০ বছরের জন্য কার্যকর হবে।
কী পরিষেবা দেবে আদানি? আদানির সংস্থা ও আর্জেন্টিনার মেরিডিয়ান গ্রুপের যৌথ কনসোর্টিয়াম এই প্রকল্পে ‘এন্ড-টু-এন্ড’ সামুদ্রিক পরিষেবা প্রদান করবে। এর মধ্যে রয়েছে এলএনজি ক্যারিয়ারের জন্য টাগবোট অপারেশন, অফশোর লজিস্টিকস এবং ক্রু ট্রান্সফার পরিষেবা।
শুরু কবে? ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে এই প্রকল্পের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভারতের জন্য কেন এটি সুখবর? ১. জ্বালানি বৈচিত্র্য: বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কেবল মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভর না করে, ভারত নতুন নতুন উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির দিকে ঝুঁকছে। আর্জেন্টিনা থেকে এলএনজি সরবরাহ এই বৈচিত্র্য আনতে বড় ভূমিকা রাখবে। ২. জ্বালানি নিরাপত্তা: আর্জেন্টিনার বিশাল শেইল গ্যাস মজুত ভারতকে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল এবং সাশ্রয়ী জ্বালানি পাওয়ার নিশ্চয়তা দেবে। ২০২৭ সাল থেকে ভারত আর্জেন্টিনা থেকে এলএনজি আমদানি শুরু করবে। ৩. শিল্পের বিকাশ: এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বছরে প্রায় ২.৪৫ মিলিয়ন টন এলএনজি উৎপাদন হবে, যা ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা পূরণে বড় সহায়ক হবে।
আদানি গ্রুপের এই নতুন উদ্যোগকে বিনিয়োগকারীরাও ইতিবাচকভাবে দেখছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের প্রভাব এবং জ্বালানি খাতের নির্ভরযোগ্যতা বাড়াতে এই পদক্ষেপ এক নতুন যুগের সূচনা করবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।





