আফগানিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে পাকিস্তানের বিমান হামলার প্রতিবাদে এবার কড়া পদক্ষেপ নিল তালিবান সরকার। রবিবার কাবুলে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে বিদেশ মন্ত্রক এক চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তালিবান সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নাঙ্গারহার এবং পাকতিকা প্রদেশে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর এই ‘বেপরোয়া’ বিমান হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এই হামলার ফলে অন্তত ২০ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন বলে দাবি করেছে কাবুল।
সূত্রের খবর, শনিবার গভীর রাতে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান আফগানিস্তানের সীমান্ত সংলগ্ন নাঙ্গারহার ও পাকতিকার একাধিক এলাকায় বোমাবর্ষণ করে। পাকিস্তানের দাবি, তারা তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP) এবং আইএস-কে (IS-KP) জঙ্গিদের গোপন আস্তানা লক্ষ্য করে এই ‘ইন্টেলিজেন্স-বেসড’ অপারেশন চালিয়েছে। সম্প্রতি পাকিস্তানে হওয়া একাধিক আত্মঘাতী হামলার বদলা নিতেই এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে ইসলামাবাদ।
তবে তালিবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, পাকিস্তান নিজেদের নিরাপত্তা ব্যর্থতা ঢাকতে সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালাচ্ছে। তিনি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে বলেন, “পাকিস্তানি জেনারেলরা নিজেদের দুর্বলতা আড়াল করতে অপরাধমূলক পথ বেছে নিয়েছেন। আফগান ভূখণ্ডে হামলার পরিণাম পাকিস্তানের জন্য ভালো হবে না।” তালিবান প্রতিরক্ষা মন্ত্রকও হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তারা উপযুক্ত সময়ে এই আগ্রাসনের ‘ক্যালকুলেটেড রেসপন্স’ বা পাল্টা জবাব দেবে। এই ঘটনার পর দুই দেশের সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।