কলকাতা বিমানবন্দরের যাত্রী পরিষেবা ও পরিকাঠামোর মানোন্নয়নে একগুচ্ছ নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করল নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। ক্রমবর্ধমান যাত্রী চাপ সামলাতে এবং ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে আরও নির্বিঘ্ন করতে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক দুই বিভাগেই বড়সড় সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
বিমানবন্দর সূত্রে জানানো হয়েছে, বর্তমান টার্মিনাল ভবনের বহির্গমন স্তরে অতিরিক্ত ৯৬৬ বর্গমিটার জায়গা যাত্রীদের ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। এই নতুন সংযোজনের ফলে বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ বহির্গমন এলাকা এবং ‘সুইং গেট জোন’-এ যাত্রীদের ভিড় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। পাশাপাশি, যাত্রীদের প্রতীক্ষার সুবিধার জন্য নতুন এই অংশে পর্যাপ্ত বসার জায়গাও বাড়ানো হয়েছে। ইতিমধ্যে এই নতুন সুবিধাটি চালু হওয়ায় যাত্রীরা দ্রুত ও স্বাচ্ছন্দ্যে পরিষেবা পাচ্ছেন।
পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বহির্গমন বিভাগের ৩,০০০ বর্গমিটার জায়গা নতুন করে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। এই সম্প্রসারিত এলাকায় ইমিগ্রেশন, কাস্টমস এবং বিমানে ওঠার আগের নিরাপত্তা তল্লাশি কেন্দ্র (PESC) স্থানান্তরিত করা হচ্ছে। নতুন এই বিন্যাসের ফলে যাত্রীদের চলাচলের পথ আরও সুগম হবে এবং ‘ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি হোল্ড এরিয়া’-তে জায়গা অনেকটা বাড়বে। খুব শীঘ্রই এই অংশটি পুরোপুরি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
পরিকাঠামোগত এই পরিবর্তনের ফলে কলকাতা বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী পরিবহণ ক্ষমতা ২৬ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ২৮ মিলিয়নে উন্নীত হলো। ক্রমবর্ধমান আকাশপথের চাহিদাকে মাথায় রেখেই বিমানবন্দরের এই আধুনিকীকরণ জরুরি ছিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর ফলে শুধুমাত্র যাত্রী পরিবহণের গতিই বাড়বে না, বরং বিশ্বমানের পরিষেবা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতেও সুবিধা হবে। এই পরিকাঠামোগত উন্নয়নে কলকাতার আকাশপথে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে আরও আরামদায়ক ও কার্যকর হবে বলেই আশা করছেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।





